ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ঢাবি শিক্ষক সমিতি

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার (১৮ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ঢাবির আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

মানববন্ধনে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা প্রতারিত হয়েছেন। তখন ইসরায়েল স্বীকৃতি পেলেও ফিলিস্তিন স্বীকৃতি পায়নি। দ্বিতীয়বার প্রতারণার স্বীকার হয়েছে ১৯৬৭ সালে। আর এই প্রতিটি ঘটনায় ফিলিস্তিনিরা ভূমি ও নিরীহ মানুষের প্রাণ হারিয়েছেন। সে কারণেই বলা হয় ইসরায়েলি ‘অকুপেশন।’ ইসরায়েলের এই নারকীয় বর্বরোচিত হত্যা, শিশু হত্যা, নারী হত্যার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

আজকের এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজনের জন্য শিক্ষক সমিতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছে কি-না জানি না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার ইতিহাস-ঐতিহ্য মোতাবেক সবার প্রথমেই ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদ করছে। এ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করার কারণে ইতোমধ্যে ইসরায়েল একটি শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সারা বিশ্বের মানুষ ফিলিস্তিনের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ইসরায়েলের পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীসহ যারা এর পক্ষ নিয়েছে তাদের সবার প্রতি নিন্দা জানাচ্ছি। এটি কোনো ধর্মের বিষয় নয়, এটি মানবতার বিষয়। সবাইকে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সর্বশেষ অবস্থা
গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ২১২ জন। নিহতদের মধ্যে ৬১ জন শিশু ও ৩৬ জন নারী আছেন। এছাড়া সেখানে আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি। গাজার মূল শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বসতকারীদের (সেটলার) অবৈধ দখলদারিত্বকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ গড়িয়েছে নবম দিনে। তবে এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনের প্রভাবশালী দল হামাস ও ইসরায়েল সেনা বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
সমিতির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ফিলিস্তিনের ওপর, মুসলমানদের ওপর ইসরায়েলের হামলা এবারই প্রথম নয়, তারা যখনই সুযোগ পেয়েছে হামলা-গণহত্যা করেছে। এবার তারা এমন এক সময় আগ্রাসন চালাচ্ছে, যখন সারা বিশ্ব করোনায় বিপর্যস্ত। ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ইসরায়েলের এই আগ্রাসন রুখে দিতে সারা বিশ্বের মানুষকে জেগে ওঠার আহ্বান জানাই।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ বলেন, ইসরায়েল নিঃসন্দেহে মানবতাবিরোধী অপরাধী। তাদের মানবতাবিরোধী কাজের আমরা নিন্দা জানাচ্ছি। তারা আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। পৃথিবীর কোনো আইনই তাদের পক্ষে কথা বলবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সবসময় নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের হয়ে কথা বলবে। আজ যদি মুসলান কর্তৃক অন্য ধর্মালম্বীদের ওপর আগ্রাসন চলত, তখনও আমরা প্রতিবাদ করতাম।

Facebook Comments