গুণীজন শুন্য হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

জাহিদুল ইসলাম, বিডিনিউজ ট্র্যাকারঃ একে একে বিদায় নিচ্ছেন গুণী সব মানুষগুলো। ২০১৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২১ গত ২ বছরে বাংলাদেশের এক ঝাঁক কিংবদন্তির প্রস্থান দেখেছি আমরা। এক সময় নক্ষত্রেরও পতন হয়। যেতে হবে সবাইকেই। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে এত এত গুণী মানুষদের প্রস্থান একটা জাতির জন্য দুশ্চিন্তার কারণ। বিডিনিউজ ট্র্যাকার পাঠকদের জন্য তাদেরকে তুলে ধরা হলো-

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল: ২০১৯ একদম নিঃশব্দতা দিয়ে শুরু হয়েছে। ২২ জানুয়ারিতে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন প্রখ্যাত গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। শুধু গীতিকারই নয়, তিনি একাধারে একজন সুরকার, এবং সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। দু’দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়েছেন তিনি। এছাড়াও, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রিয় সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হয়েছে এই সঙ্গীত মহারথী। সবকিছু ছাড়িয়ে তিনি একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা।

শাহনাজ রহমতউল্লাহ: ১৯৯০ সালে ‘ছুটির ফাঁদে’ ছবিতে গান গেয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই মহান শিল্পী ২৩ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। বিজয় দিবসে বেজে উঠা ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে আমায় বল’ শিরোনামের গানগুলি তিনিই গেয়েছিলেন। ১৯৯২ দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রিয় সম্মান ‘একুশে পদক’এ ভূষিত হন তিনি।

সুবীর নন্দী: সংগীতের প্রতি ভালোবাসার আরেক প্রতীক গুণী সংগীত শিল্পী সুবীর নন্দী। ছিলেন ব্যাংকার, কিন্তু সংগীতের প্রতি অপার টান তাকে ব্যাংকার থাকতে দেয়নি। ‘বন্ধু তোর বরাত নিয়া আমি যাবো’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’, ‘পৃথীবিতে প্রেম বলে কিছু নেই’ এর মত আরো অনেক জনপ্রিয় গানে দেশের মানুষকে মুগ্ধ করে ৭ মে পৃথীবির মায়া ত্যাগ করেন সুবীর নন্দী।

টেলি সামাদ: বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর থেকে বেশি চলচ্চিত্র কেউ করতে পেরেছে কিনা জানা নেই। তবে তাকে বলা চলচ্চিত্র জগতের সবথেকে শক্তিশালী অভিনেতা। ৬০০টি চলচ্চিত্রে যে মানুষটি অভিনয় করেছিলেন তাকে এমন কথা বলাই যায়। গত ৭ এপ্রিলে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে পরলোক গমন করেন এই গুণী অভিনেতা।

সা’দত হুসাইন ২০২০

মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান সা’দত হুসাইন ৭৩ বছর বয়সে ২২ এপ্রিল মারা যান। তিনি কিডনির জটিলতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন।

দক্ষ আমলা হিসেবে পরিচিত সা’দত হুসাইন পাকিস্তান আমলে ১৯৭০ সালে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তানে (সিএসপি) যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে গিয়ে প্রবাসী সরকারে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদের সচিব ছিলেন। ২০০৭ থেকে পাঁচ বছর তিনি পিএসসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।

জামিলুর রেজা চৌধুরী, ২০২০

বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে যেসব বড় বড় ভৌত অবকাঠামো হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোতেই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী ২৮ এপ্রিল চিরবিদায় নেন। ৭৭ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করা জামিলুর রেজা চৌধুরী ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন।

এছাড়া আরও যারা বিদায় নিলেন-

এন্ড্রু কিশোর ২০২০
আনিসুজ্জামান ২০২০
সাংবাদিক মিজানুর রহমান ২০২১
আলী যাকের ২০২১
এটিএম শামসুজ্জামান ২০২১
কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ ২০২১

Facebook Comments