জামাল ভূইয়ারা দেশের টানেই সব কিছু বিসর্জন দেন

দেশের টানে উন্নত জীবন আর জাকজমকপূর্ণ জীবনকে ফেলে রেখে দেশে আসেন ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া। ক্রমেই অস্তমিত হতে থাকা বাংলাদেশের ফূটবলে এ যেন গোবরে পদ্মফুল। দেশের টানে ইউরুপের মত জায়গায় খেলা বিসর্জন দিয়ে এসেও যেন নিস্তার নেই জামালের। ক্র্যাকড মস্তিস্কের কিছু সমর্থক তার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাকে বিদ্ধ করেছেন সমালোচনায়! কিন্তু কেন?

আমাদের স্টুডেন্ট ভিসায় ইউরোপে গেলে তারপরের চিন্তাটাই থাকে ইউরোপে কিভাবে স্থায়ী হওয়া যায়, মানে ৫ বছর কাটিয়ে সিটিজেনশীপ নিশ্চিত করা যায়। সেখানে জামালের পুরো পরিবার ডেনমার্কের মত উন্নত দেশে থাকে। একা একটা ছেলে বাংলাদেশে এসে পরে থাকে শুধু দেশের হয়ে খেলার জন্য। আপনি তাকে ট্রল করছেন? আমি খুব অবাক যে, জামালেরও হেটার তৈরি হয়ে গেছে এই দেশে। খুব বাজেভাবে ট্রল করা হচ্ছে তাকে। জামালের স্ত্রী ইতালিতে থাকেন। এফসি কোপেনহেগেনে খেলা জামালের পুরো বায়োডাটা না জেনেই অনেকেই লিখছেন যে, ইউরোপে তার ভাত নেই বলে দেশে চলে এসেছে। আপনি সেই “ভাত” বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন?

পুরো পরিবার নিয়ে এত বছর ইউরোপে থাকা একজনের ওই দেশে ভাতের অভাব? যুক্তি দিবেন ভালো কথা, কিন্তু যুক্তিগুলো এতটাই লেইম? জামাল তার ফেসবুক পেজে তার নিজস্ব ইনস্টাগ্রাম একাউন্টের লিংক এড করে দেন। একজন প্লেয়ার তার নিজস্ব সোশাল একাউন্টগুলোর প্রোমোশন করতেই পারে, এতে দোষের কোথায়? আমরা ইউরোপীয় ফুটবলারদের দিকে তাকালে দেখি অনেক ফুটবলারদের ফেসবুক পেজ থেকে বিভিন্ন প্রোডাক্ট, ব্র্যান্ড, অর্গানাইজেশনের পেজ প্রোমোশন করা হয়। কেনো করা হয়? কারন উনারা চুক্তিবদ্ধ।

তাই ফ্যান্সদের নিকট সেটির বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। আমরা এটি জানি বলেই খুব নরমাল ভাবেই ব্যপারগুলো দেখি। তাহলে জামালের বেলায় এসব কেনো? জামাল সেখানে নিজের একাউন্ট প্রোমোশন করতে পারবে না? মানে এগুলোও ট্রল করার বিষয়? আমি জানি আপনারা কেনো ট্রল করছেন। জামাল গত কিছুদিন আগে তার ফুটবলীয় আইডল ” রোনালদো লিমা”র নামের পাশে অরিজিনাল রোনালদো শব্দটি যুক্ত করেছে। যেটি দেখে অনেক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ফ্যান্স ব্যথিত হয়েছেন। আমি সেইসকল ভাইদের নিকট বলছি, আমার ভূখন্ডের ক্যাপ্টেনের পক্ষ্য আমি আপনাদের নিকট ক্ষমা চাচ্ছি।

কোনো ফ্যান্সকে কষ্ট দেওয়া ক্যাপ্টেনের উদ্দেশ্য ছিলো না। যে শব্দটি উনি ব্যবহার করেছেন, সেটি ইউরোপের পত্রিকাগুলোতে কতবার ব্যবহার হয়েছে, আমি সেই আলোচনাতেই যাচ্ছি না, এমনকি ফিফা এই শব্দটি কোথায় কোথায় ব্যবহার করেছে আমি সেদিকেও যাচ্ছি না। আমি বলবো যে, এ ব্যপারে আমাদের কিছুটা বুঝতে অসুবিধে হয়েছে। তারপরেও আমি আপনাদের নিকট স্যরি বলছি, আপনাদের ফ্রেন্ডলিষ্টের একজন ভাই হিসেবে যদি ব্যথিত হয়ে থাকেন। একজন মানুষ এত উন্নত জীবনযাপন ছেড়ে চলে এসেছেন, নিজের দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, লা লীগার প্লাটফর্মে বসে সাউথ এশিয়ান জোনে বাংলাদেশি একজন পারসন হিসেবে কাজ করছেন। কত মানুষের সাথেই ত আমাদের কত ভুল বুঝাবুঝি হয়ে যায়।

দেশের অধিনায়কের এতটুকু “ভুল বুঝাবুঝি” ভুলতে পারছেন না? সত্যি আমি এসব নিয়ে লিখতাম না, কারন এদেশে সাকিব, তামিমদেরও ট্রল করা হয়। কিন্তু ক্রিকেট ফ্যান্স ফ্রেন্ডলিষ্টে কম থাকায় হোমপেজে আসে কম। গত এক মাসে জামালকে নিয়ে সমালোচনামূলক লিখা প্রচুর এসেছে, এখনো আসছে। তাই এটি নিয়ে লিখার প্রয়োজনতাবোধ থেকে লিখেছি আমি বিশ্বাস করি, জামালের প্রতি কারো হিংসা নেই, অভিমান তৈরি হয়েছে হয়তো। তবে আমি আশা করবো, আজকের পর থেকে এটি আর আপনাদের মনে থাকবে না।

আজ বাংলাদেশ – ভারতের হাইভোল্টেজ ম্যাচ। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৮ টায় শুরু হবে ম্যাচটি। আপনার দেশের মান রাখতেই মাঠে নামছে জামালে রা। জামালদের আগলে রাখতে শিখি, এতে আমাদেরই লাভ। কারন, ইউরোপ থেকে আরো অনেক জামাল আগামীর সময়গুলোতে দেশে আসার পথে রয়েছে। আমাদের নিজেদের ভুলের জন্যে যেনো সেই সুগম পথটি বন্ধ না হয়ে যায়।

Facebook Comments