টিএসসির নতুন নকশা পছন্দ হয়নি প্রধানমন্ত্রীর

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্রের (টিএসসি) প্রস্তাবিত নকশায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবং পুনরায় সেটি পরিবেশবান্ধব ও পরিশীলিত স্টাইলে করতে নির্দেশ দেন তিনি।

গত ২৫ মে রাজধানীর তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে টিএসসির স্থাপত্য নকশার বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা দেখার পরে ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে টিএসসি কমপ্লেক্সটি পুনর্র্নিমাণের জন্য গণপূর্ত বিভাগের তৈরি এবং প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত একটি নকশা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছিল। কর্তৃপক্ষ তার বর্তমান অবকাঠামোটি আনল্যাটারড রেখে একটি নতুন নকশা তৈরি করে।

সেসময় প্রস্তাবিত নকশায় টিএসসি এর পুরানো কাঠামোটি অপরিবর্তিত রেখে পুনর্র্নিমাণের পরিকল্পনা করা হয়। বর্তমান ইনস্টলেশনগুলি না ভেঙে বরং এখন পরিত্যক্ত সুইমিং পুলের জায়গায় একটি ১০ ​​তলা বিল্ডিং নির্মিত হওয়ার নির্দে।শনা দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেখানে পরিবেশ বান্ধব ও আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য ‘স্পষ্ট নির্দেশনা’ দিয়েছেন। তিনি প্রায় ৩.৭ একর জায়গার বিস্তীর্ণ এলাকায় একটি আধুনিক টিএসসি তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে আধুনিক সুযোগ সুবিধাগুলি সহ আশপাশে খোলা জায়গা রেখে টিএসসি পুনর্গঠন করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করার কথা বলেছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এবং শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরি আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

টিএসসি নামে পরিচিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্রটি ১৯৬১ সালে একটি বিনোদনমূলক কেন্দ্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। গ্রীক স্থপতি এবং নগর পরিকল্পনাবিদ কনস্ট্যান্টিনোস ডক্সিয়াডিস টিএসসির মূল বিল্ডিংটি ডিজাইন করেছিলেন। টিএসসিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দিকে পরিচালিত করে ঐতিহাসিকভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবুও, টিএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি রাজনৈতিক এবং সামাজিক কেন্দ্র হিসাবে রয়ে গেছে।

টিএসসি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিপূরক করতে ক্যাম্পাসের কমিউনিটি লাইফ পোস্টার চায়। এটি ক্যাম্পাসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক হৃদয়।

Facebook Comments