বিদ্যুৎ বিল দেননি ঠিকাদার, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হল হার্ট ফাউন্ডেশনের!

সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। মাত্র সোয়া ৪ লাখ টাকা বকেয়া বিল থাকায় স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয়া হল। তাও আবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবন বুঝে নেয়ার আগের বিদ্যুত বিলের জন্য তাদের এই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ঘটনায় শত শত হৃদরোগী ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসা ব্যবস্থাই ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হাসপাতালের ল্যাবরোটারী রিএজেন্ট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আল্ট্রসনোগ্রাম, ইকোকার্ডিওগ্রাম, এক্সরে, ইটিটি, ইসিজিসহ প্যাথলজিক্যাল সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ কুমিল্লার একটি টিম এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে মাসে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বুঝে নেয়। এরআগে ২০২০ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে হ্যান্ডওভার সমাজ সেবা বিভাগ ঠিকাদার এর কাছ থেকে বুঝে নেয়। সে সময় ২০১৯ সালের নভেম্বর, ডিসেম্বর ও ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস অর্থাৎ ৩ মাসের বকেয়া ছিল সাড়ে ৩ লাখ টাকা। পরবর্তীতে সুদে আসলে ৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা হয়। অথচ হার্ট ফাউন্ডেশন গত এক বছর প্রতিমাসে নিয়মিত বিল দিয়ে আসছিল।

সূত্র জানায়, হার্ট ফাউন্ডেশনের ঠিকাদার হিরু মিয়া ভবনের কাজ করার সময় বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ঐ সময় বিদ্যুতের বিল না দেয়ায় হার্ট ফাউন্ডেশনের উপর বর্তায় এ বিল। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ঠিকাদারকে বিল পরিশোধে বার বার তাগাদা দেয়া হলেও তিনি তা পরিশোধ করেননি। এতে করে বিদ্যুত বিলের বোঝা এসে পড়ে হার্ট ফাউন্ডেশনের উপর।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক প্রশাসন ডাক্তার কে, এম জহিরুল হক বলেন, সমাজ কল্যান বিভাগ হল কর্তৃপক্ষ। সমাজকল্যান বিভাগ যেদিন থেকে হাসপাতালটি বুঝে নেয় সেদিন থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিদ্যুত বিল দেয়ার কথা। ঠিকাদার টাইলস ফিটিং করেছে, দরজা-জানালা ও ইলেকট্রিক কাজ করেছে সেগুলোর বিল ঠিকাদার পরিশোধ করবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদার হিরু মিয়া বলেন, আমি ২০১৯ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত কাজ করি ঐ সময় পর্যন্ত আমি বিদ্যুত বিল প্রদান করেছি। বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি হার্ট ফাউন্ডেশনে গিয়ে যোগযোগ করব।

Facebook Comments