লকডাউনে দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

চীনের উহান প্রদেশ থেকে ২০১৯ সালে ছড়ানো খোলা চোখে দেখা যায় না, এমন একটি ভাইরাসের কাছে অসহায় পৃথিবী, বিপর্যস্ত অর্থনীতি। দীর্ঘ প্রায় ২ বছর ধরে চলা সংকট থেকে উত্তরনের চেষ্টা করছে এখন বিশ্ব। বহু দেশ কাঙ্খিত সফলতা অর্জনের মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারলেও বাংলাদেশ-ভারত সহ বহুদেশ এখনো করোনার সাথে সম্মুখ সংগ্রামে লিপ্ত আছে। ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হলেও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের অভাব এবং ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও পুনরায় আক্রান্ত হওয়া এবং পূর্বে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিরা পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার কারনে করোনা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশে ২০২০ সালে ঘোষিত লকডাউনের দীর্ঘদিন পর লকডাউন তোলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হলেও চলতি বছরের এপ্রিল থেকে পুনরায় লকডাউন ঘোষণা করে সরকার, কিন্তু তাতেও করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় একসপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়, যা গত ১লা জুলাই থেকে দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে, ২য় সপ্তাহের মতো লকডাউন চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে লকডাউনের মেয়াদ বাড়তে পারে।

লকডাউন চলাকালীন সময়ে রিক্সা চলাচল করার সুযোগ রাখলেও লকডাউনের ফলে দৈনন্দিনভিত্তিতে রোজগার করে, এমন অনেক পেশাজীবী কর্মহীন হয়ে গৃহে অবস্থান করছে। কেননা শহরে লকডাউন কঠোর হওয়ায় হকার থেকে শুরু করে ভাসমান বহু ব্যবসায়ীদের কাজ একেবারে বন্ধ। এই সময়ে তাদের অনেকেই জমানো টাকা ভেঙ্গে খেলেও অনেকেই মানুষের সাহায্য সহযোগীতার উপর নির্ভর করছে। কিন্তু গত বছরের লকডাউনের সময় সরকারী সহায়তার পাশাপাশি সামর্থ্যমান মানুষ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো মানুষের দুয়ারে দুয়ারে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিলেও গত বছরের লকডাউনের সেসব সহায়তাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, শুধুমাত্র সরকারের পক্ষ থেকে জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল করার মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা পাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে, কিন্তু দরিদ্র নাগরিকদের অধিকাংশই এ সেবা গ্রহণ করতে পারে না বা করতে চায় না মুখ পেতে সহায়তা চাইতে না পারার কারনে।

লকডাউনের সময়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত সহ  দরিদ্র শ্রেণীর মানুষেরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকার কঠোর লকডাউন ঘোষণার ফলে দিন এনে দিন খাওয়া বহু মানুষ তাদের কাজে যোগ দিতে পারছে না। বাংলাদেশে বহু পেশাজীবী আছে, যারা শহরের অলি গলি সহ রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ব্যবসা করেন। করোনা কালে এসকল ভাসমান ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং ক্ষুদ্র চাকুরীজীবীরা কাজে যোগ দিতে না পারায় অর্থকষ্টে ভুগছেন। যেকোন পেশাজীবীই হোক, যাদের বসে খাওয়ার মতো সঞ্চয় নেই, তারাই কঠিন সময় পার করবে লকডাউনকালীন সময়ে। যাদের অনেকের চুলায় আগুণ না জ্বললেও কারো কাছে সহযোগিতা চাইবে না সম্মান বজায় রাখতে। এই অবস্থায় একজন আদর্শ মুসলিম কিংবা সুনাগরিকের কাজ হলো সেই সকল প্রতিবেশীদের খোঁজ নেয়া। সব সময় তাদের পাশে দাঁড়ানো দরকার হলেও করোনা কালীন কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো বেশি প্রয়োজন।

প্রত্যেক সম্পদশালী প্রতিবেশীর উপর হক আছে দরিদ্র ও অসহায় এবং বিপদগ্রস্ত প্রতিবেশীর। প্রতিবেশীকে দুঃখে কষ্টে রেখে কোন প্রতিবেশী ভাবনাহীন সুখী জীবনযাপন পারে না, বিবেককে জাগ্রত করে তাদের পাশে দাঁড়াতেই হবে। মানুষের দুঃখ কষ্ট অনুভব করে তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের দুঃখ কষ্টকে ভাগ করে নেয়ার মাধ্যমেই করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তোলনের চেষ্টা করতে হবে। যেকোন পরিস্থিতিতে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। সরকার যেহেতু লকডাউন দিয়ে নাগরিকদের ঘরে থাকতে বলেছে, সেহেতু অসহায় নাগরিকদের খাদ্য চাহিদা মেটাতে হবে সরকারকেই, তজ্জন্য জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে কেউ খাদ্য সহায়তা চাইলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পৌঁছে দিয়ে মানুষের কষ্ট লাগব করতে হবে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দরিদ্র-অসহায় নাগরিকদের সমস্যা শুনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জুবায়ের আহমেদ

শিক্ষার্থী
ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া(বিজেম)

কাটাবন, ঢাকা।

Facebook Comments