১০০ বছরেও আসবে না আরেকজন শেন ওয়ার্ন

ক্যারিয়ারের প্রথম ৪ টেস্টের পর শেন ওয়ার্নের বোলিং গড় ছিলো ৩৩০! অভিষেকের পরের সিরিজেই দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। সেই শেনওয়ার্ন ফিরে এসেছিলেন দোর্দন্ডপ্রতাপে। নায়ক অনেকেই হয়। কিছু কিছু মানুষ কিংবদন্তিও হন। কিন্তু কিংবদন্তিদের কিংবদন্তি হন শত কোটিতে একজন। শেনওয়ার্ন ছিলেন তেমনি একজন যাকে আপনি কিংবদন্তিদের কিংবদন্তি হিসেবে বিবেচনা করতে পারবেন। চ্যালেঞ্জ নিতে সবসময়ই পছন্দ করতেন। না হলে অমন শুরুর পর কেউ অমন চূড়ায় পৌঁছাতে পারেন?

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের কথা বলি। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২১৩ রানে অলআউট হয়ে গেলো অস্ট্রেলিয়া। ড্রেসিংরুমে দলনেতা স্টিভ ওয়াহর কাঁধে হাত রেখে বললেন- এত চিন্তা করো না, আজকের ম্যাচটা আমি জেতাবো। সেদিন শেনওয়ার্ন যা করেছিলেন তার জন্যে হলেও তাকে যুগের পর যুগ মনে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব। এরপর ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন ফাইনালেও। ব্যাটিংয়ে শচীন যেমন বোলিংয়ে শেন ওয়ার্নও তেমনই। কারণ, দুজনই ছিলেন নিখুঁত শিল্পীর তুলির আঁচড়ের মতন। ২০০৮ সালে ভারতে আইপিএলের প্রথম আসর বসল। সবচেয়ে দুর্বল দল রাজস্থান রয়্যালসকে চ্যাম্পিয়ন করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্কের ক্যারিশমা। ডিয়েগো ম্যারাদোনার পর, শচীন টেন্ডুলকার এবং শেন ওয়ার্নই ছিলো আমার প্রিয় স্পোর্টস পারসন। সেই শেন ওয়ার্নও চলে গেলো! এটাই নিয়ম। সবাইকেই চলে যেতে হবে। ১৪৬ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে ক্রিকেটের বরপুত্র ৩ জনই। শচীন, লারা আর শেন ওয়ার্ন। মুরালিধরন ১০০০ উইকেট পেলেও শেন ওয়ার্নই সেরা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ তার ক্যারিয়ারের ৯০ শতাংশ উইকেটই ছিলো বড় দলগুলোর বিপক্ষে। অন্যদিকে মুরালিধরনের মোট উইকেটে ২৫ শতাংশ উইকেটই বাংলাদেশ আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে! আমাদের শৈশবের মহানায়করা চলে যাচ্ছেন। মাইকেল জ্যাকসনের পর ডিয়েগো ম্যারাদোনা গতকাল শেন ওয়ার্ন! সামনের দিনগুলোতে এরকম মহানায়কদের কেউ না কেউ বিদায় নেবেনই। একদিন আমিও!

Facebook Comments