এক আদেশে একাধিক অসঙ্গতি, সেই নথির ভিত্তিতেই জনতার বাজার বন্ধের নির্দেশ! সুপ্রিম কোর্টের নথিতে এক নাম, জেলা প্রশাসনের চিঠিতে ভিন্ন মামলা নম্বর—আদালতের আদেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন । মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ রোডের জনতার বাজার-১ বন্ধ ও উদ্যোক্তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশকে ঘিরে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা যে চিঠির মাধ্যমে বাজারের মালামাল অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে, সেই চিঠিতে উদ্ধৃত সুপ্রিম কোর্টের মামলার নম্বর ও পক্ষসমূহের পরিচয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাজারের উদ্যোক্তারা।
বিশেষ করে, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের Civil Petition for Leave to Appeal No. 3480 of 2026-এর একটি কপি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মামলাটি উল্লেখ করা হয়েছে Writ Petition No. 11475 of 2026 থেকে উদ্ভূত হিসেবে। নথিটির শিরোনামে সরকারের পক্ষে সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আবেদনকারী এবং Professor Dr. Md. Rafiqul Kabir and others-কে Respondents হিসেবে দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত ২২ সেপ্টেম্বরের কজলিস্টে Writ Petition No. 11475/2026-এর পক্ষ হিসেবে “Md. Borhanuddin vs Bangladesh and others” উল্লেখ রয়েছে।
এখানেই তৈরি হয়েছে মূল প্রশ্ন—জনতার বাজার-১-এর উদ্যোক্তা মো. বোরহান উদ্দিনকে ঘিরে যে রিট মামলা, সেই মামলার নম্বর ১১৪৭৫/২০২৬ হলে আপিল বিভাগের নথিতে Respondents হিসেবে অন্য ব্যক্তির নাম কেন রয়েছে?
জেলা প্রশাসনের চিঠিতেও মামলার নম্বর নিয়ে প্রশ্ন ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে জনতার বাজার-১-এর উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে দেওয়া চিঠিতে Civil Petition for Leave to Appeal No. 3480 of 2026-এর ২২ সেপ্টেম্বরের আদেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
![]()
চিঠিতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন জনতার বাজারের দখল বুঝে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উদ্যোক্তাদের নিজ খরচে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু ওই চিঠির বর্ণনায় রিট পিটিশন নম্বর ১১৪৭৯/২০২৬ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে নথির পাঠে দেখা যাচ্ছে, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত কজলিস্টে সংশ্লিষ্ট মামলা হিসেবে Writ Petition No. 11475/2026 এবং পক্ষ হিসেবে Md. Borhanuddin vs Bangladesh and others পাওয়া যাচ্ছে।
![]()
ফলে একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিতে মামলার নম্বর ও পক্ষের পরিচয় নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি সামনে এসেছে।
“ভুল নম্বর” নাকি অন্য কোনো নথির আদেশ—উঠছে প্রশ্ন
উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, একটি ভুল বা অসঙ্গতিপূর্ণ আদালতের আদেশকে ভিত্তি করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনতার বাজার-১ বন্ধ এবং মালামাল অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, আদালতের প্রকৃত আদেশের সঙ্গে প্রশাসনিক চিঠিতে উদ্ধৃত তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল। কারণ আদালতের কোনো আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মামলার নম্বর, পক্ষের নাম, তারিখ ও আদেশের বিষয়বস্তু—সবকিছু সঠিকভাবে যাচাই করা জরুরি।
তবে নথিতে থাকা অসঙ্গতি থেকেই আদালতের আদেশটি জাল বা ভুয়া—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এর জন্য আদালতের মূল রেকর্ড, সার্টিফায়েড কপি এবং সংশ্লিষ্ট মামলার অফিসিয়াল নথি যাচাই প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের কজলিস্টে বোরহান উদ্দিনের নাম ঘটনাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব অনলাইন কজলিস্ট। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কজলিস্টে Writ Petition 11475/2026-এর বিপরীতে স্পষ্টভাবে Md. Borhanuddin vs Bangladesh and others লেখা রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বরের কজলিস্টেও একই মামলা নম্বরের বিপরীতে Md. Borhanuddin vs Bangladesh and others দেখা যায়।
অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট রিট মামলার পরিচয় সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত কজলিস্টে বোরহান উদ্দিনের নাম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে।
![]()
তাহলে আপিলের নথিতে অন্য নাম কেন? প্রশ্নের জায়গাটি এখানেই। বাজার বন্ধের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত নথি এবং আদালতের প্রকাশিত কজলিস্টের মধ্যে যদি মামলার পক্ষের নাম বা মামলার নম্বরে পার্থক্য থাকে, তাহলে কোন নথির ভিত্তিতে জনতার বাজার-১ বন্ধ করা হলো এবং সেই নথিটি কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল—তা স্পষ্ট করা জরুরি।
উদ্যোক্তারা বলছেন, এ ধরনের অসঙ্গতির কারণে তারা আদালতের প্রকৃত আদেশের সঙ্গে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।