আমলাদের স্যার ডাক শোনার খায়েশ অসাংবিধানিক

রংপুরের ডিসি সাহেবের স্যার সম্বোধনে কথা নিয়ে বিতর্ক এখন পুরো দেশে ছড়িয়ে গেছে। রংপুরের ডিসি সাহেবের ঐ ঘটনা ছাড়াও বিগত বছরগুলোতে আমরা এরকম বেশ কিছু সংবাদ দেখেছি যেখানে বিভিন্ন উপজেলার এসিল্যান্ড এবং ইউএনওদের এই স্যার ইস্যুতে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। সাংবাদিকদের হেনস্তাসহ সাধারণ নাগরিকদের সাথে দুর্ব্যবহারেরও একাধিক সংবাদ আমরা দেখেছি।বগুরার অতিরিক্ত দায়রা জজকে বদলি ও স্যার সমাচার

প্রজাতন্ত্রের চাকর হয়ে প্রজাতন্ত্রের মালিকদের কাছে নিজেকে প্রভুর আসনে চিন্তা করা বা স্যার ডাক শোনার খায়েশ স্পষ্টত সংবিধানের লঙ্ঘন। কারণ  বাংলাদেশের  সংবিধানে স্পষ্ট করে বলা আছে প্রজাতন্ত্রের মালিক হচ্ছেন জনগণ। আর সেই প্রজাতন্ত্রের চাকর হচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সেখানে চাকর হয়ে মালিকের কাছ থেকে স্যার ডাক শোনার কোন সুযোগ নেই। স্যার বলার প্র্যাকটিসটা শুধুমাত্র ডিপার্টমেন্টাল। সেখানে তারা এই ডিপার্টমেন্টাল কালচার প্রজাতন্ত্রের জনগণের উপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে পারেন না। কাজেই তাদের এই অসাংবিধানিক খায়েশকে এখনই রুখে দিতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদেরকে হুশিয়ারও করেছিলেন। আমাদের সবারই সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিৎ।
একটা পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছি বলেই সবাইকেই সম্মান দিয়েই কথা বলি। থানার ওসিকে যেমন ওসি সাহেব বলি তেমনি জেলার ডিসিকে ডিসি সাহবে বলি। আমার জন্য হয়তো সহজ। কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিক কখনই এসিল্যান্ড কিংবা ইউএএনওকে স্যার সম্বোধন ছাড়া কথা বলতে পারেন না। এই জায়গায় পরিবর্তন দরকার। এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন আমাদের শিক্ষকরাই। তারা যদি দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীদের ঠিকমত শিখিয়ে দেন কাকে স্যার বলতে হবে আর কাকে স্যার বলতে হবে না তাহলে এই বিড়ম্বনার ইতি ঘটতে পারে। দিনশেষে সংবিধান সবকিছুর ঊর্ধ্বে। আমলাদের এই প্রবণতাটা বেশি। বিসিএস পুলিশের চেয়ে বিসিএস এডমিনে সমস্যাটা প্রকট। কারণ চাকরিতে জয়েনের পর থেকেই তারা এমস এক প্রোটকলের গ্যারাকলে বেড়ে উঠেন যে জীবনের মিনিং বলতে তারা প্রোটোকলকেই বুঝেন। যেকারণে তারা প্রটোকল পেতে হিংস্র হয়ে উঠেন। আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষই জানেননা প্রজতন্ত্র কি! সেই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের সাথে প্রজাতন্ত্রের মালিকদের (জনগনের) সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিৎ।  প্রজাতন্ত্রের নাগরিকরা কি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের স্যার বলতে বাধ্য কিনা সে বিষয়ে তেমন কোন ধারণাই রাখেন না। যে কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়েও আমলাদের মধ্যে এরকম স্যার ডাক শোনার মত খায়েশ বৃদ্ধি পায়।