কুড়িগ্রাম থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে ঢাকামুখী যাত্রীদের কাছ থেকে

0
34

ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রায় অতিরিক্ত বাসের ভাড়া গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ, কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের। কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করে নিলেও কোনও প্রতিকার মিলছে না। প্রতিবাদ করলে উল্টো ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। এতে বাড়িতে ঈদ করতে আসা জেলার বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার (১৩ জুলাই) বিকাল থেকে বাসের টিকিট কাউন্টারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রকিব বলেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের জন্য নাবিল ও এনা বাসের টিকিট কেটেছেন। এনা কোম্পানির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে আগামী ১৬ ও ১৮ জুলাই ভ্রমণের জন্য প্রতি আসনের ভাড়া ১৫০০ টাকা নিয়েছে। আর নাবিল পরিবহন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের প্রতি আসনের জন্য নিয়েছে ১৭০০ টাকা। অথচ এসব গাড়ির নিয়মিত ভাড়া ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা।

রকিব আরও বলেন, ঈদ শেষে ঢাকা ফেরত যাত্রী, যারা চাকরিজীবী, তাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কোনও নজরদারি নেই।’

শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস নয়, সাধারণ বাসেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় যাতায়াতে সরকার নির্ধারিত ৮৪০ টাকা ভাড়ার বিপরীতে ১১০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দূরপাল্লার বাস ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক অ্যাসোসিয়েশন। এতে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব ৩৫৩ কিলোমিটারের জন্য নন-এসি বাসের ভাড়া (ব্রিজের টোলসহ) নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪০ টাকা।

কুড়িগ্রামে ঈদ শেষে ঢাকার কর্মস্থলে ফিরতে নাবিল পরিবহনের টিকিট করেছেন মনির হোসেন। নন-এসি বাসের প্রতি আসনের ভাড়া ৮৪০ টাকার পরিবর্তে তাকে গুনতে হয়েছে ১৬০০ টাকা।

মনির বলেন, এটা জুলুম। যারা সামর্থ্যবান তারা না হয় বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিতে পারলেন। কিন্তু যাদের সামর্থ্য নেই তারা কী করবেন? এ জেলায় অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র ও শ্রমিক শ্রেণির। তারা ঈদ শেষে এই অতিরিক্ত ভাড়া কোথা থেকে দেবেন? বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের দেখা উচিত।’

বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে কয়েকটি কাউন্টার ঘুরেও নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট পাননি কুড়িগ্রামের বাসিন্দা গার্মেন্টকর্মী মহসিন আলী। তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকায় গার্মেন্টে কাজ করি। ঈদ করতে বাড়ি এসেছি। এখন ফিরে যাওয়ার জন্য বেশ কিছু কাউন্টারে গেছি। সব কাউন্টার থেকেই প্রথমে বলা হচ্ছে টিকিট নাই। পরে অনুরোধ করলে বেশি ভাড়ার বিনিময়ে টিকিট দিতে রাজি হচ্ছে। কোথাও ১১০০, কোথাও ১৩০০ আবার কোথায় ১৬০০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক দূরপাল্লার বাস ঢাকা যাওয়া-আসা করে। যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রায় এসব বাসের প্রতিটি কাউন্টারেই বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বেশি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেই টিকিট শেষ হয়ে গেছে বলে যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় কোনও উপায়ান্তর না পেয়ে যাত্রীরা বেশি ভাড়া দিয়েই কর্মস্থলে ফিরছেন।

তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কুড়িগ্রামের নাবিল পরিবহন কাউন্টারের ম্যানেজার আব্দুর রহিম। তিনি বলেন আমরা ভাড়া বেশি নিচ্ছি না। সরকারিভাবে নির্ধারিত ৮৪০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।’

নাবিল পরিবহনের যাত্রী মনির হোসেনের কাছে ১৬০০ টাকা করে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনির হোসেনের কাছে যে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল, সেটি নাবিল পরিবহনের রিজার্ভ বাস ছিল। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে করেছি। পরে ওই যাত্রী প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় বাসটি বন্ধ করে দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।’

অন্যদিকে এনা পরিবহনের কুড়িগ্রামের কাউন্টার ম্যানেজার মুকুল মিয়া দাবি করেন, ‘আমরা যাত্রীদের থেকে নির্ধারিত ভাড়া নিয়েই টিকিট বিক্রি করছি।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মাহবুবার রহমান বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে আমরা ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করেছি, যা নিয়মিত চলবে।’ তবে ইতোমধ্যে যেসব যাত্রী অতিরিক্ত টাকায় টিকিট করেছেন তাদের টাকা ফেরতের বিষয়ে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বিআরটিএর এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে একাধিকবার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের খবরে বুধবার বিকালে বাস কাউন্টারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয়েছে। এ সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নাবিল পরিবহনকে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর অভিযোগকারী মুনির নামে ওই যাত্রীর টিকিটের টাকা ফেরত দেয় পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

তবে বাসের যাত্রীদের অভিযোগের শেষ নেই, কারন একটাই কর্তৃপক্ষের সবসময় নেই কোন নজর বা অভিযান।

আপনার মন্তব্য