কোচিং না করায় শিক্ষার্থীকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করলেন শিক্ষক

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের নলতায় ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে কোচিং না করায় শিক্ষার্থীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ক্ষতবিক্ষত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইনস্টিটিউটের পুরুষ হোস্টেলের ৪০৭ নম্বর কক্ষে নির্যাতনের ওই ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার মো. সোলাইমান (২৫) ইনস্টিটিউটের ল্যাব বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

জানা গেছে, ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির রেডিওলজি বিভাগের অতিথি শিক্ষক (গেস্ট টিচার) সাঈদী হাসান ভাইভায় ফেল করিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের তার কাছে কোচিং করতে বাধ্য করেন। কিন্তু মো. সোলাইমান তার কাছে কোচিং না করায় শুক্রবার রাতে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান ও রশিদ ইসলামকে দিয়ে তাকে পুরুষ হোস্টেলের ৪০৭ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে পেটানো হয়। এ সময় নাহিদ হাসান ও রশিদ ইসলামসহ আরও কয়েকজন মো. সোলাইমানের হাত, পা ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি পিটিয়ে থেঁতলিয়ে দেয়। ইনস্টিটিউটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্যাতনের শিকার মো. সোলাইমানের বাড়ি পটুয়াখালীতে। শুক্রবারই তিনি হোস্টেলে আসেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ৪০৭ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, গেস্ট টিচার সাঈদী হাসান ভাইভায় ফেল করিয়ে দেওয়া ও পরীক্ষার খাতায় লিখতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের তার কাছে কোচিং করতে বাধ্য করেন। এ ছাড়া পরীক্ষার সময় তাকে নগদ অর্থও দেওয়া লাগে শিক্ষার্থীদের।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির শিক্ষক সাঈদী হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির অধ্যক্ষ মো. ফারুকুজ্জামান বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনাটি সত্য। দ্রুতই তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।’

কালীগঞ্জ থানার ওসি গোলাম মোস্তফা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দোষী যারাই হোক না কেন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Facebook Comments