দুঃসময়ে ভারতকে পাশে পাচ্ছে বাংলাদেশ

0
104

বাংলাদেশের জ্বালানী সংকট যখন চরম রূপ ধারণ করতে যাচ্ছিলো ঠিক তখন ভারত বন্ধু হিসেবে এগিয়ে এসেছে। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে ডিজেলের চাহিদা থাকে অনেক বেশি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশ সুলভ মূল্যে রাশিয়া থেকে তেল -গ্যাস আমদানি করতে পারছিলো না। ঠিক তখন ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ালো। চালু হতে যাচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন। এই ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনকেই বিশেষজ্ঞরা জ্বালানী সংকট মোকাবেলার লাইফলাইন হিসেবে দেখছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভার্চুয়ালি ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের উদ্বোধন করবেন আজ শনিবার (১৮ মার্চ)। ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল আসবে। শুক্রবার (১৭ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিকেল ৫টা অনুষ্ঠানটির জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে স্থাপিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধনের পর শনিবার থেকেই ভারত থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আসা শুরু হবে।

 

জানা যায়, ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দুই দেশের মধ্যে প্রথম আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি তেলের পাইপলাইনটি নির্মাণের আনুমানিক খরচ ৩৭৭ কোটি রুপি। বাংলাদেশ অংশে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৮৫ কোটি রুপি। ভারত সরকার থেকে এ আর্থিক সহায়তা বহন করা হয়েছে। পাইপলাইনটি ভারতের অভ্যন্তরে ৫ কিলোমিটার ও বাংলাদেশ অংশে ১২৫ কিলোমিটার বিস্তৃত।

 

পাইপলাইনটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সাতটি জেলায় প্রাথমিকভাবে উচ্চ গতির ডিজেল সরবরাহ করবে। ১০ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপ দিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় বছরে ১ মিলিয়ন টন তেল পাওয়া যাবে। যেখানে পরবর্তীকালে ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহন করা সম্ভব হবে।

ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের কার্যক্রম ভারত থেকে বাংলাদেশে হাই-স্পিড ডিজেল পরিবহন টেকসই, নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশ-বান্ধব করবে এবং এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশে-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল আমদানির জন্য ২০১৭ সালে চুক্তি সই হয়। এটি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত।

এর আগে, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি এই পাইপলাইনটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ২০২০ সালের মার্চে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প ভারতের লুমানিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) এবং বাংলাদেশের মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

আপনার মন্তব্য