প্রত্যাবর্তন করতে মরিয়া মোহাম্মদ আমির। মোহাম্মাদ আমির ফিরতে চান। আরএ একটিবার সবুজ সাদা জার্সি গায়ে জড়াতে চান। গত এক বছরে পিসিবিতে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছিলো সে পরিবর্তনই মোহাম্মদ আমিরকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বিডিনিউজ ট্র্যাকারের ফিচার বিভাগে লিখেছেন সালমা রিয়া-

মোহাম্মদ আমিরকে নিয়ে কখনো কোনো বায়োপিক হলে সেটা হতে পারতো আস্ত একটা থ্রিলার, কি নেই আমিরের লাইফে..

উত্থান থেকে পতন,স্ট্রাগল, কামব্যাক সবশেষে অভিমানে নিভৃতে সরে যাওয়া। কোনো থ্রিলার সিনেমার থেকে কম কিসে? মাত্র ১৭বছর বয়সে লর্ডসে অভিষেক, পাকিস্তানের ভাগ্যের কোল আলো করে আসা আমির প্রথম বছরেই জিতেন টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই দেখে ফেলেন মুদ্রার অপরপীঠ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাসিত হন ক্রিকেট থেকে। মোহাম্মদ আমিরের গল্প এক দশকের গল্প, যে গল্পের অর্ধেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল ফিক্সিং নামক ভয়ঙ্কর থাবায়!

শুরুতেই আলোড়ন সৃষ্টি করা মোহাম্মদ আমির ছোট্ট বয়সে করে ফেলেন এক মারাত্মক ভুল, যে ভুলের মাশুল হয়তো গুনছেন এখনো,কি জানি হয়তো সারাজীবন । উঠতি বয়সের আবেগে সামান্য কিছু টাকার নেশায় যে ভুলে জড়িয়েছিলেন সেই ভুলের খেসারত দিতে যেতে হয়েছিল লাল দালানেও। শুধু তাই নয়, পাঁচ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে ছিলেন বনবাসে। বনবাস থেকে ফিরে আসলেন, খেললেন বিপিএল। সেখানে পারফর্ম করে মিলল জাতীয় দলের টিকিট। সেই থেকে ছিলেন পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল বাঁ-হাতি এক পাকিস্তানি পেসারের সামনে সেদিন রীতিমতো হাস ফাঁস করছিল ভারতের বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা। এই বোলারের ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচের স্পেলটি নির্বাচিত হয়েছিল দশকের সেরা বোলিং স্পেল হিসেবে। নিঁখাদ ক্রিকেটপ্রেমী হলে সেই দ্বৈরথ স্মৃতিতে আছে নিশ্চয়।

অভিমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন! যদিও গুঞ্জন ছিলো রমিজ রাজা পদত্যাগ করলে আবারো আমির ফিরবেন পাকিস্তানের জার্সি গায়ে।মোহাম্মদ আমির এবং রমিজ রাজার মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান বিশ্বাস করেন যে, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে শাস্তি পাওয়া খেলোয়াড়দের পুনরায় জাতীয় দলে খেলার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। আর রমিজ রাজার এই মতবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন নাজাম শেঠি। নাজাম শেটির কথায় বুঝা যায় আমিরের ফেরার পথ ওপেন।

রমিজ রাজা পদত্যাগের নাজাম শেঠির ভরসায় আবারো দেশের জার্সি গায়ে জড়াবোর স্বপ্ন আরও জোড়ালো হল। নিজেকে আবার প্রমাণ করার জন্য বিপিএল এবং পিএসএলের মাধ্যমে প্রাথমিক প্রস্তুতিটা সেরে নিয়েছে, এই তো গত চার – পাঁচেক দিন আগের কথা মিডিয়ায় রব উঠেছিলো প্র্যাকটিস ক্যাম্পের কল পেয়েছে আমির।

পেস বোলিংটা হচ্ছে শিল্প,যা সবাইকে দিয়ে হয় না যখন আপনি উইকেট বা স্ট্যাম্পের দুইদিকে বল সুইং করাতে পারবেন ব্যাটসম্যানকে বাইরেও আনতে পারেন আবার ভেতরে রেখেও খেলাতে পারবেন তখন আপনি সফল আর সেটি সবচেয়ে ভালো পারতেন আমির। প্রতিটি ব্যাটসম্যানের জন্য তার আলাদা আলাদা প্লান থাকে। ক্যারিয়ারে খুব কম সময়ে অনেক অর্জন রয়েছে নামের পাশে। আবার অনেক হতাশাও আছে। পেস বোলিং এর কারিশমা দেখানোর জন্যই জন্ম হয়েছে মোহাম্মদ আমিরের! হতে পারতেন গোটা দুনিয়ার সাদা বলের রাজা,এত দিনে হয়তো নামের পাশে ৫০০ উইকেট জ্বলজ্বল করত!

অজি ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ থেকে বর্তমান বিশ্বের সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিশ্বে বর্তমানে যত বোলার আছে আমিরের বল ফেস করতে আমার সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়!

ফেরার গুঞ্জনকে বাস্তবায়িত করে আবার ফিরো এসো প্রিয় আমির, তোমাকে আবারও বাইশ গজের সবুজ গালিচায় দেখার অপেক্ষায় কোটি ভক্ত !

আপনার মন্তব্য