আবুল কাশেম ফজলুল হক যেভাবে বাংলার বাঘ হয়েছিলেন

0
179

বাংলার বাঘ, শেরে-ই-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক। বাংলার বাঘ শেরে বাংলা ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। দুই বাংলাতেই বহুল প্রচলিত শেরে বাংলার ‘বাংলার বাঘ’ এই উপাধি কবে, কখন, কিভাবে এসেছিলো তা নিয়েই শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিডিনিউজ ট্র্যাকারের বিশেষ আয়োজনে লিখেছেন  মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম।

কিভাবে উনি বাংলার বাঘ নামে অবিহিত হলেন?বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪০ সাল। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের নেতারা স্বাধীনতার দাবি তুলছেন বারবার। ঠিক তখনই পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোর শহরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনে মুহম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। পাঞ্জাবের প্রধানমন্ত্রী স্যার সেকান্দার হায়াত খান ও তাঁর সরকার পাঞ্জাবের শহীদগঞ্জের মসজিদ শিখদের ছেড়ে দেয়। উলেখ্য এই মসজিদ নিয়ে মুসলিম ও শিখদের দ্বন্দ্ব ছিলো বহুকাল ধরে। শিখেরা এ মসজিদকে ‘গুরুদার’ বলে দাবি করে এবং তাদের পক্ষে হাইকোর্ট ও প্রিভিকাউন্সিল রায় দেয়। আল্লামা মাশরেকীর খাকছার দল ১৯৪০ সালের ২১ মার্চ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মসজিদটি দখল করতে যায়। সৈন্যবাহিনী গুলি করে অনেক মুসলমান হত্যা করে। পাঞ্জাবের মুসলমান সম্প্রদায় স্যার সেকেন্দার হায়াত সরকারের বিরুদ্ধে প্রচন্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ রকম বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে মুসলিম লীগের সম্মেলন হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এসময় একে ফজলুল হক লাহোরে পৌঁছে খাকছারদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। খাকছার দল তাঁকে বিপুলভাবে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে মিয়া আব্দুল আজিজ এমএলএ’র বাড়ি পৌঁছে দেয়। ফজলুল হক লাহোর সম্মেলনে পৌঁছলে এক অভূতপূর্ব পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তখন সভাপতি জিন্নাহ বক্তৃতা করছিলেন। আর জনতা শেরে বাংলা জিন্দাবাদ, শেরে বাংলা জিন্দাবাদ, শেরে বাংলা ফজলুল হক দীর্ঘজীবী হোক বলে স্লোগান দিতে থাকে। আধা ঘন্টা যাবত্ জনতা দাড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকে। জিন্নাহ বক্তব্য থামাতে বাধ্য হন। তারপর ফজলুল হক আসন গ্রহণ করলে জিন্নাহ বলেন, ‘বাঘকে খাঁচায় পোরা হয়েছে, এবার শান্ত হোন, কাজ আরম্ভ করুন।’ জনতা কর্তৃক পুষ্পমাল্য দিয়ে ফজলুল হক তথা বাংলার বাঘকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। জিন্নাহ তাঁর অসমাপ্ত ভাষণ শুরু করলে জনতা জিন্নাহ নয় শেরে বাংলার বক্তৃতা শুনতে চান। ভারতের মুসলিম নেতারা যখন একমত হয়ে প্রস্তাব করতে ব্যর্থ হন তখন বাংলার বাঘ একে ফজলুল হকই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেই সম্মেলন তথা ঐতিহাসিক জনসভা থেকেই আবুল কাশেম ফজলুল হক হয়ে যান শেরে-ই-বাংলা অর্থাৎ বাংলার বাঘ।

আজ ২৭ এপ্রিল কৃষক জনতা মেহনতি মানুষের নেতা শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের মৃত্যু বার্ষিকী। এই দিনে মহান নেতার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

আপনার মন্তব্য