সরিষার উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন প্রযুক্তি শীর্ষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠান

সিরাজগঞ্জে উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন প্রযুক্তি শীর্ষক প্রন্তিক কৃষকদের সরেজমিনে মাঠ দিবস অনুষ্ঠান হয়েছে। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় জেলার বেলকুচি উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামে সরেজমিন গবেষণা বিভাগের আয়োজনে মাঠ দিবস অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বল্প মেয়াদী উন্নত বারি-১৭ জাতের উফশী সরিষা সম্পর্কে কৃষকদের পরিচিতি করেছেন যেন কৃষকেরা আগামীতে জমিতে এ জাতের সরিষা রোপন করতে উদ্বুদ্ধ হয় ও বেশি লাভবান হতে পারে।

সল্প মেয়াদী উচ্চ ফলনশীল সরিষা বারি-১৭ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৈল বীজ গবেষণা কেন্দ্র এ জাতটি উদ্ভাবন করেছেন। সল্প মেয়াদী হওয়ায় আগাম জাতের আমন ধান কর্তনের পর এ জাতটি আবাদ করে আবার বোর ধানের আবাদ করা যায়। জাতটির বীজের রং হলুদ বিধায় বাদামি রং এর বীজের তুলনায় শতকরা ৩-৪ ভাগ তৈল বেশী নিষ্কাশন করা যায়। অন্যান্য জাতের তুলনায় ৫-১০% বেশি ফলন পাওয়ায় প্রতি বিঘায় ৬-৭ মন সরিষা উৎপাদন হয়। বীজ রোপনের থেকে ৮০-৮৫ দিনের মধ্যে সরিষা জমি থেকে কর্তন করা যায়, যা প্রতি সরিষার সিমে দানা প্রায় ৫০ টি হয়ে থাকে। ভৈজ্য তৈলবীজ ফসলের মধ্যে সরিষা প্রধান। সরিষার বীজে শতকরা ৪০-৪৫ ভাগ তৈল এবং খৈলে প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ আমিষ থাকে যা দেশের তৈলের চাহিদা পূরনের পাশাপাশি গবাদিপশুর খৈলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাঝে থেকে বক্তব্য রাখেন আব্দুর রশিদ, সাইফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম জানান, টরি-৭ জাতের সরিষার থেকে বারি-১৭ জাতের সরিষা বেশি উৎপাদন হয়েছে এ মৌসুমে। অন্যান্য মৌসুমের থেকে এ মৌসুমে সরিষার ফলন তিনগুণ বেশি হয়েছে এছাড়াও রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ নেই বল্লে চলে। নতুন একটি জাত আমাদের মাঝে এসেছে। এই জাতটি ছড়িয়ে দিয়ে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করবো। বর্তমান মৌসুমে আমাদের এলাকায় ৫০% আবাদ করছি আগামীতে শত ভাগ আবাদ করবো।

মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বৈজ্ঞানিক সহকারী মো:সিরাজুল ইসলামবলেন, টরি-৭ সরিষার থেকে বারি-১৭ জাতের সরিষা ফলন বেশি। এ অঞ্চলের প্রায় ২০০ কৃষকদের নিয়ে সভা করেছি। বারি-১৭ সরিষা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি ও এজাতের সরিষা চাষ করতে উদ্ভুদ্ধ হয়। কৃষকদের সকল ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছি যেন তারা ফলন বেশি পায়। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: লোকমান হোসেন, সরেজমিনে গবেষণা বিভাগের উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: আরিফুল ইসলাম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মেহরা আফরোজ সুবর্ণা।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তৈলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের পরিচালক ও তৈলবীজ গবেষনা কেন্দ্র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফেরদৌসী বেগম। তিনি বলেন, সরিষার তৈল আমাদের শরীরে জন্য উপকারী শরীরের ভিটামিন পুরন করে যা অন্যান্য খাবারের পাওয়া যায় না। আমরা চাই সিরাজগঞ্জ সহ সব জেলাতেই নিজেরা সরিষা উৎপাদন করে তৈল চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয় ও বিদেশ রপ্তানি করতে পারি। দেশ ও কৃষকদের কথা চিন্তা করে আমরা উন্নত জাতের সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধির প্রকল্প হাতে নিয়ে বারি-১৭ জাতের সরিষা আবিষ্কার করি যেন কৃষক সল্প মেয়াদে অধিক লাভবান হওয়া যায়।

আপনার মন্তব্য