ওসমান হাদির উপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ খাজা তারিকের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির উপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানিয়েছেন এনসিপির মাগুরা জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক  খাজা তারিক। এক প্রেস নোটে খাজা তারিক জানান-

“ওসমান হাদীর ওপর হামলা: এটি শুধু একজন তরুণের ওপর আঘাত নয়—এটি আইন, ন্যায়বিচার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ওপর সরাসরি আঘাত।
দোষীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির কঠোর ধারায় মামলা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

আমাদের একজন সহযোদ্ধা, সংগ্রামী তরুণ নেতা ওসমান হাদী—এই মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি সংঘটিত অপরাধ, যা বাংলাদেশের সংবিধান, ফৌজদারি আইন এবং মৌলিক মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।

আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই— এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত অপরাধী, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে।

এই ঘটনা—

দণ্ডবিধি ৩০৭/৩২৬/৩২৪ (হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর আঘাত)

দণ্ডবিধি ৩৪ (সম্মিলিত অপরাধ)

ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের ধারা

এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিধান
অনুযায়ী বিচারযোগ্য।
আমরা প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই— এই ঘটনাকে যদি অবহেলা করা হয়, যদি প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়, যদি রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়—তাহলে রাষ্ট্র নিজেই অপরাধের অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হবে।

আমরা অবিলম্বে দাবি জানাচ্ছি—

১. ঘটনার স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ বিচারিক তদন্ত
২. জড়িত সকল অপরাধীর তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ
৩. ওসমান হাদীর চিকিৎসার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ
৪. ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা

এটি শুধু একজন ওসমান হাদীর প্রশ্ন নয়—
এটি তরুণদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রশ্ন।

আমরা তরুণদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই— ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকলে এই অপরাধীরা আরও সাহস পাবে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে তরুণদেরই সামনে আসতে হবে, সচেতন হতে হবে, আইনি পথে সংগঠিত হতে হবে।

আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না—
আমরা চাই বিচার।
আমরা চাই আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ।
আমরা চাই এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর কোনো ওসমান হাদীর দিকে হাত বাড়ানোর সাহস না পায়।

আজ আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি— এই ঘটনার বিচার না হলে, এটি কেবল একটি ব্যক্তির ওপর হামলা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না;
এটি রাষ্ট্র বনাম নাগরিক প্রশ্নে রূপ নেবে।

ওসমান হাদী বেঁচে থাকুক বা না থাকুক—
এই অপরাধের বিচার হতেই হবে।

ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন আইনি ও গণতান্ত্রিক পথে চলমান থাকবে।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ