চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্যশীল বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনাতেই আস্থা

0
39

২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ১৪ দলের জোট ভিশন-২০২১ ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ পরিচালনার জন্য ক্ষমতায় আসেন। ভিশন-২১ এর প্রধান বিষয়টি ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ। সেসময় যুবসমাজ এবং প্রথম ভোট প্রদানকারী সকল ভোটার শেখ হাসিনার উপর আস্থা রেখেছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা দেয়ার ফলে বাংলার যুবসমাজ ধীরে ধীরে আমাদের অলক্ষ্যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বৈশিষ্ট্য মোকাবেলায় প্রস্তুত হয়েছে। বর্তমান সময়ে সবচে আলোচিত বিষয় হলো চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। এই বিপ্লব শুধুমাত্র ডিজিটাল ডিভাইসের উপরই প্রভাব ফেলবে না, প্রভাব ফেলবে মানব সভ্যতা ও উন্নয়নের সকল পদক্ষেপেই। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বৈশিষ্ট্য মোকাবেলায় ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত সমাজ গঠনের পাশাপাশি উন্নত অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক বিশে^র সাথে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক, মানব সমাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ বিশেষ প্রয়োজন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার গঠনের পর থেকেই পর্যায়ক্রমে আবকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে গণমানুষের ডিজিটাল উপস্থিতি বেড়েছে ব্যাপকভাবে।


সমালোচনা করাই যেতে পারে কিন্তু চোখের সামনে গড়ে উঠা উন্নয়নকে কিভাবে অস্বীকার করা যায়? ঢাকা শহরের মেট্রোরেল, বিভিন্ন সড়কে মহাসড়কে ফোরলেন, এইটলেন, পদ্মাসেতু, পায়রাপোর্ট, কর্নফুলি ট্যানেল এমন আরও অনেক প্রকল্পই আছে যেগুলোকে অস্বীকার করা যায়না। এছাড়াও সিস্টেমগত অনেক উন্নয়নের সুফলই আমরা ভোগ করছি যা আমাদের অলক্ষে রয়েছে। বিশ^বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভর্তির সময় নানাবিধ সমস্যা পোহাতে হত। বর্তমানে ডিজিটালাইজেশনের ফলে ঘরে বসেই আবেদন ফরম পূরণ, রেজাল্ট জানাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ঘরে বসেই করতে পারছি। ম্যানুয়াল সিস্টেমে প্রায়শই শোনা যেত পকেটমার বা ছিনতাইকারী টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। ব্যাংকিং সিস্টেম ডিজিটালাইজেশনের ফলে আমরা খুব সহজেই এক ব্যাংকের একাউন্ট থেকে দেশের যেকোন জায়গা থেকেই টাকা উত্তোলন করতে পারি, যেখানে টাকা হারানোর ভয় অনেকাংশেই কমে যায়। ডিজিটালাইজেশনের ফলেই যেকোন ধরনের তথ্য প্রাপ্তি বা যেকোন লাইব্রেরী ব্যবহার করতে পারি খুব সহজে। এভাবেই যুব সমাজ এগিয়ে গেছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলার কাছাকাছি।


বৈশি^কভাবে নানাবিধ সংকট তৈরী হয়েছে। যুদ্ধের দামামা বেজে উঠছে দেশে দেশে। এই যুদ্ধের দামামা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বিশে^র অর্থনীতির উপর। গেøাবালাইজেশনের যুগে একদেশের প্রভাব খুব সহজেই অন্যদেশের উপর পড়ে। চাইলেই প্রভাব এড়িয়ে যেতে পারে না। বাংলাদেশও পারছে না এড়িয়ে যেতে। ফলশ্রæতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক জিনিসেরই ক্রয়মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবারই অনুরোধ করে যাচ্ছেন উৎপাদন বাড়ানোর জন্য। পরনির্ভরশীলতা কমানোর জন্য। দুর্ভিক্ষের আশঙ্কাও করছেন কখনও কখনও। জ¦ালানী মোকাবেলায় দেশীয় গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হবে। স্বাভাবিক হলে দেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পের উৎপাদনও বাড়বে। অন্য আরেকটি সংকট হলো জলবায়ু সংকট। এই সংকট মোকাবেলাতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রভাবশালী ভুমিকা রাখছেন যা আমরা পত্রপত্রিকা খোললেই দেখতে পাই।


গতকালের যুবসমাবেশে কয়েকলক্ষ যুবাদের সমাবেশ ঘটেছিল। যুবাদের চোখে মুখে আগামির স্বপ্ন। তারা উন্নত বাংলাদেশ দেখতে চায়। তারা চায় সংকট কাটিয়ে উঠে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্যশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলতে। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্নধরনের হামলা ভাংচুর চালালেও এমন কোন আশা জাগানিয়া প্রতিশ্রæতি দেখাতে পারেনি, যাতে যুবারা আস্থা রাখতে পারে। বাংলাদেশের যুবারা শত সংকট সত্তে¡ও আস্থা রাখে শেখ হাসিনাতেই।

আপনার মন্তব্য