আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি । দেশের অধিকাংশ বিভাগে প্রার্থী দিলেও খুলনা বিভাগে দলটির পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। তারা একে ‘আঞ্চলিক বৈষম্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অথচ দলটির জন্মই হয়েছিলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের দাবানল থেকে।
দেশের ৮ টি বি়ভাগের ৭ টিতেই এনসিপি প্রার্থী দিলেও প্রার্থী দেয়নি খুলনার বিভাগে যেটা এনসিপির গঠনতন্ত্রের সাথেই সাংঘর্ষিক। খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—কেন এনসিপি এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলটিকে অবহেলা করল? তৈরি করলো নির্বাচনী বৈষম্য? তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে খুলনার কর্মীরা সক্রিয় থাকলেও নির্বাচনের সময় কেন্দ্র থেকে তাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। জোটের আসন সমঝোতা করতে গিয়ে মাগুরা ২ আসনের মতো এনসিপির সম্ভাব্য বিজয়ী আসনও তারা ছেড়ে দিয়েছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: খুলনার স্থানীয় এনসিপি সমর্থকরা জানান, প্রার্থী না থাকায় তারা নির্বাচনী মাঠ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় নেতা বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম দল অন্তত গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে প্রার্থী দেবে। কিন্তু পুরো বিভাগকে এভাবে বঞ্চিত করা আমাদের জন্য হতাশাজনক। এতে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।”
কেন এই ‘বৈষম্য’? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:
• জোটগত সমীকরণ: কোনো বৃহত্তর নির্বাচনী জোটের সাথে আসন ভাগাভাগির সমঝোতার কারণে হয়তো এই বিভাগের আসনগুলো মিত্র দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
• কৌশলগত নীরবতা: কৌশলগত কারণে নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের চেয়ে অন্য অঞ্চলিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কেন্দ্রীয় নীতি।
ভবিষ্যৎ প্রভাব: খুলনা বিভাগে কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটাররা বিকল্প দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এতে ভবিষ্যতে এনসিপির জন্য এই অঞ্চলে ভোটারদের পুনরায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, কেন্দ্রের এমন ‘বৈষম্যমূলক’ আচরণের প্রতিবাদে খুলনা বিভাগের অনেক নেতা-কর্মী পদত্যাগ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এনসিপির ৩০ আসনের তালিকা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের প্রার্থীরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলটির ঘোষিত ৩০টি আসনের মধ্যে রয়েছে— পঞ্চগড়-১ (পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী), দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী), রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া), কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী ও রাজারহাট), নাটোর-৩ (সিংড়া), সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর), পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া), টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল), ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা), মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী), ঢাকা-৮ (মতিঝিল, রমনা, শাহবাগ, পল্টন ও শাহজাহানপুর), ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা), ঢাকা-১১ (বাড্ডা, ভাটারা ও রামপুরা), ঢাকা-১৮ (উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ ও খিলক্ষেত), ঢাকা-১৯ (সাভার), ঢাকা-২০ (ধামরাই), গাজীপুর-২ (সিটি কর্পোরেশনের একাংশ ও সেনানিবাস), নরসিংদী-২ (পলাশ ও সদর উপজেলার আংশিক), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ), কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার), নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর আংশিক), নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া), লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ), চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ এলাকা), বান্দরবান (বান্দরবান পার্বত্য জেলা), নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলার আংশিক) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর)।