রাজনৈতিক সমঝোতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক জোট রাজনীতির বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে—খুলনা বিভাগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত থাকার ব্যাখ্যা কী?
জোটের বৃহত্তর স্বার্থে, ঐক্য অটুট রাখার দায়বদ্ধতা থেকে এনসিপি শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ও সংযত ভূমিকা পালন করেছে। শক্ত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও দলটি সমঝোতার স্বার্থে একাধিক ত্যাগ স্বীকার করেছে। কিন্তু সেই ত্যাগের বিপরীতে আজ বাস্তব চিত্র হলো—খুলনা বিভাগের একটি আসনেও এনসিপির উপস্থিতি নেই।
এটি কি কেবলই কাকতালীয়?নাকি রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ঘাটতির ফল?
খুলনা বিভাগ কোনো প্রান্তিক অঞ্চল নয়। এখানেই রাজনীতির মাঠে এনসিপির সক্রিয় সংগঠন, পরীক্ষিত নেতৃত্ব এবং দৃশ্যমান জনসমর্থন রয়েছে। তবু পুরো বিভাগজুড়ে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলকে আসন বিবেচনার বাইরে রাখা হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে—এই উপেক্ষা কি জোটের ঘোষিত ন্যায়সংগত বণ্টননীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ক্ষোভ চাপা নেই। তাদের বক্তব্য স্পষ্ট—“আমরা জোটের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছি, শৃঙ্খলা মেনেছি, ত্যাগ করেছি। কিন্তু খুলনা বিভাগে এনসিপিকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া মানে সেই ত্যাগকে অবমূল্যায়ন করা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন—জোট রাজনীতি শুধু সমঝোতার অঙ্ক নয়, এটি আস্থার সম্পর্ক। কোনো একটি দল বা অঞ্চলকে ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা হলে তা জোটের ভেতর নীরব অসন্তোষ তৈরি করে, যা সময়ের সঙ্গে বিস্ফোরক রূপ নিতে পারে।
এখানে মূল প্রশ্নটি তাই আরও গভীর— এটি কি একটি পরিকল্পিত অবহেলা, নাকি বাস্তবতা অনুধাবনে ব্যর্থতা?এনসিপি বিভাজনের রাজনীতি চায় না। দলটি চায় ন্যায়সংগত মূল্যায়ন, সম্মানজনক অংশীদারিত্ব এবং খুলনা বিভাগের জনগণের মতামতের প্রতিফলন। এখনো সময় আছে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক সচেতন মহল। জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইলে এখনই এই ভারসাম্যহীনতা সংশোধন করতে পারে।
কারণ ইতিহাস বলে—যেখানে ত্যাগের মূল্যায়ন হয় না,
সেখানে ঐক্য টেকে না।খুলনা বিভাগের প্রশ্ন আজ কোনো একটি দলের নয়—এটি জোট রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন।
এবং সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এখনই।