এশিয়ার রাজনীতিতে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এমনটা কেউ কখনও কল্পনাও করেনি, ভাবেনি, চিন্তা করেনি। ঠিক সেটাই ঘটতে যাচ্ছে। কি সেই পরিবর্তন? বাঘ সিংহে এক ঘাটে জল খাবে- সেটা সময়ের প্রয়োজনেই! ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও যেটা সম্ভব ছিলো না, সম্ভব হয়নি সেটাই ঘটতে যাচ্ছে ২০২৬ সালে! কি সেটা? চীন রাশিয়া ভারতের মধ্যে সামরিক অর্থনৈতিক জোট ও সহযোগিতা।

যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯০ সাল থেকেই স্নায়ু যুদ্ধ পরবর্তী বছরগুলোতে কৌশলগত কারণে রাশিয়ার সাথে চীনের এবং চীনের সাথে ভারতের মধ্যে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছি়লো। ২০২০ সাল থেকেই চায়না রাশিয়া এখন সেরা মিত্র। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অতিমাত্রায় ভারতবিরোধী নীতির কারণে রাশিয়ার মধ্যস্ততায় চায়না ভারত দ্বন্দ্বও বেশ প্রশমিত হয়েছে। ইরান যুদ্ধে আমেরিকার পরাজয়ের পেছনে অন্তরালে ঠিকই কাজ করেছে এই জোট। ইরানের বিরুদ্ধে যেখানে যুদ্ধ করেছে পাকিস্তান সেখানে ভারত পাশে দাড়িয়েছে ইরানের। কি বুঝলেন? এশিয়ার রাজনীতি থেকে মার্কিন আধিপত্যের কবর দিতে চীন রাশিয়া ইরান কোরিয়া ভারত সিক্রেটলি কাজ করছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বরাজনীতিতে এমন একটি সমীকরণকে অনেকেই প্রায় অকল্পনীয় বলে মনে করতেন। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে এশিয়ার ভূরাজনীতিতে সেই অসম্ভব বলে মনে হওয়া পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

একসময় যাদের স্বার্থ ও অবস্থানের মধ্যে ছিল গভীর পার্থক্য, সেই চীন, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। বলা হচ্ছে, সময়ের প্রয়োজনেই হয়তো ‘বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খাওয়ার’ মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও যে ধরনের আঞ্চলিক শক্তির সমন্বয় দেখা যায়নি, ২০২৬ সালে এসে সেই অঞ্চলের শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

চীন-রাশিয়া সম্পর্কের পরিবর্তন

স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কের নানা পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকের পর থেকে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক আরও তীব্র সংকটে পড়ায় মস্কো ও বেইজিংয়ের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ ও পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও রাশিয়া ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। ফলে মস্কোর কূটনৈতিক ভূমিকা দিল্লি ও বেইজিংয়ের উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

ভারত কি অবস্থান বদলাচ্ছে?

ভারত ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে একইসঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে একটি বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে। ফলে চীন-রাশিয়া-ভারতকে সরাসরি একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট হিসেবে দেখার আগে বাস্তব সহযোগিতা ও কূটনৈতিক অবস্থানগুলো আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

তবে জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পশ্চিমা আধিপত্যের বিকল্প আন্তর্জাতিক কাঠামো—এসব প্রশ্নে তিন দেশের স্বার্থের কিছু জায়গায় মিল তৈরি হচ্ছে।

ইরান ও এশিয়ার নতুন সমীকরণ

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও এই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। চীন, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। ভারতও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট যুদ্ধে কোনো দেশ গোপনে অন্য দেশের হয়ে কাজ করেছে কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কোনো যুদ্ধে ‘পরাজিত’ হয়েছে—এ ধরনের দাবি প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য, সরকারি বক্তব্য ও স্বাধীন বিশ্লেষণ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তাহলে সামনে কী?

মূল প্রশ্ন হচ্ছে—এশিয়ায় কি ধীরে ধীরে এমন একটি বহুমুখী শক্তির কাঠামো তৈরি হচ্ছে, যেখানে চীন, রাশিয়া, ভারত ও ইরান নিজেদের স্বার্থে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে?

যদি এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হয়, তাহলে এশিয়ার নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের ধরন অবশ্যই পরিবর্তিত হতে পারে। তবে এটিকে এখনই একটি আনুষ্ঠানিক ‘চীন-রাশিয়া-ভারত সামরিক জোট’ হিসেবে ঘোষণা করা বাস্তবতার চেয়ে এগিয়ে যাওয়া হবে।