সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কেন বিতর্কিত এ চুক্তি

২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি F-35A বিক্রির সম্ভাব্য $24.3 বিলিয়ন চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সরবরাহ নয়—চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনার মধ্যে আছে এবং বাস্তব ডেলিভারি হলে তা কয়েক বছর সময় নিতে পারে।

কেন চুক্তিটি এত বিতর্কিত?

১. ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি হলো মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের Qualitative Military Edge (QME) বজায় রাখা। বর্তমানে ইসরায়েলই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র F-35 অপারেটর। সৌদি আরব ৪৮টি F-35 পেলে প্রথম আরব দেশ হিসেবে এই বিমান পাবে। ফলে ইসরায়েলের আকাশযুদ্ধের প্রযুক্তিগত সুবিধা কতটা অক্ষুণ্ণ থাকবে—সেটি বড় প্রশ্ন।

২. চীনের কাছে F-35 প্রযুক্তি পৌঁছানোর আশঙ্কা
এটাই সম্ভবত সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে সৌদি আরবের চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের কারণে F-35-এর অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তি চীনের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। সৌদি অবকাঠামোতে চীনা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন।

৩. সৌদি-চীন সম্পর্ক বনাম মার্কিন স্বার্থ
সৌদি আরব একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। তাই ওয়াশিংটনের জন্য প্রশ্ন হলো—সৌদিকে এত উন্নত মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি দেওয়ার পর সেই প্রযুক্তি কতটা নিরাপদ রাখা যাবে। একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের F-35 চুক্তিও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

৪. মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য
F-35 শুধু আরেকটি যুদ্ধবিমান নয়; এর stealth ও sensor capabilities এটিকে অত্যন্ত উন্নত প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে। তাই সৌদি আরব এটি পেলে ইরানসহ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য হলো, প্রস্তাবিত বিক্রয়টি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তন করবে না।

৫. সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কের বিষয়টিও জড়িত
আগে ইসরায়েল চেয়েছিল সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণকে F-35 বিক্রির সঙ্গে যুক্ত করা হোক। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবটি সরাসরি এমন শর্তের সঙ্গে বাঁধা হয়নি বলে Axios জানিয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

এখানে আসল ভূরাজনৈতিক প্রশ্ন শুধু “সৌদি আরব F-35 পাবে কি না” নয়।

বরং প্রশ্ন হলো:

যুক্তরাষ্ট্র কি একই সঙ্গে সৌদি আরবকে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি দেবে এবং সৌদির চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কের ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—চুক্তি অনুমোদিত হওয়া আর বিমান হাতে পাওয়া এক জিনিস নয়। বর্তমানে কংগ্রেসের পর্যালোচনা চলছে; চূড়ান্ত চুক্তি, উৎপাদন ও সরবরাহে কয়েক বছর লাগতে পারে।

আপনি চাইলে আমি এই বিষয়টি নিয়ে “সৌদিকে F-35 দেওয়ার পেছনে আমেরিকার আসল ভূরাজনৈতিক হিসাব” শিরোনামে একটি শক্তিশালী বাংলা নিউজ-অ্যানালাইসিসও লিখে দিতে পারি।