কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পানি ডেসালিনেশন প্ল্যান্টে ইরানি হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রয়েছে।
কুয়েতি কর্তৃপক্ষ বলেছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের আগে এই প্ল্যান্টে হামলা চালানো হয়। হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে সকালের দিকে কুয়েতের বৃহত্তম তেল শোধনাগার মিনা আল-আহমাদিতে ড্রোন হামলা হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা (KUNA) জানিয়েছে, হামলায় শোধনাগারের একাধিক অপারেশনাল ইউনিটে আগুন ধরে যায়। তবে কোনো কর্মী আহত হননি। জরুরি ও অগ্নিনির্বাপণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করছেন।
আল জাজিরার সাংবাদিক মালিক ট্রেইনা কুয়েত সিটি থেকে জানিয়েছেন, এটি মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে তৃতীয়বারের মতো হামলা। দেশজুড়ে মানুষ এখন উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ তেলের চাহিদা মেটাতেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ইরানের উপকূল থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় কুয়েত সবচেয়ে সহজে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।”
হামলার সময় দেশজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং আকাশে ইরানি মিসাইল আটকে দেওয়ার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কুনা আগেই সতর্ক করে জানিয়েছিল যে, কুয়েতে “শত্রুতামূলক মিসাইল ও ড্রোন হামলা” চলছে।
কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো পানির জন্য প্রায় পুরোপুরি ডেসালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল। গত ৩০ মার্চও একই ধরনের হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।
ইরান এসব হামলার দায় অস্বীকার করেছে এবং ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা