ডোনাল্ড লুর স্থলে দায়িত্ব নিচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পল কাপুর

দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন কূটনীতিতে নতুন অধ্যায় ডোনাল্ড লুর স্থলে দায়িত্ব নিচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পল কাপুর।

দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর স্থলে দায়িত্ব নিচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কূটনীতিক পল কাপুর।
ওয়াশিংটনে সোমবার এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্তনি ব্লিঙ্কেন এ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডোনাল্ড লু ছিলেন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম মুখ্য স্থপতি। বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রশ্নে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি তার অবস্থান অনেক সময় বিতর্কও সৃষ্টি করেছিল।

পল কাপুরকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন প্রশাসনের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে আসছেন। তিনি এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলসহ একাধিক সংস্থায় দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি এখন এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে। চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পল কাপুরের নিয়োগকে তাই একটি “কৌশলগত ভারসাম্য আনার প্রচেষ্টা” হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে দৃঢ় পর্যায়ে রয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। ডোনাল্ড লুর আমলে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনেক সময় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। পল কাপুর দায়িত্ব নিলে সেই নীতিতে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা এখন কূটনৈতিক মহলের প্রধান আলোচ্য বিষয়।

ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পল কাপুর মূলত বাস্তবধর্মী ও নরমপন্থী কূটনীতির পক্ষপাতী। তিনি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখলেও কূটনৈতিক ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেন। তার নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে পল কাপুর বলেছেন, “দক্ষিণ এশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতেও পল কাপুরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেলেও, নতুন নেতৃত্বে সেই সম্পর্ক পুনরায় উষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাই। পল কাপুরের অভিজ্ঞতা এই অঞ্চলে আমাদের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেবে।”

সব মিলিয়ে, দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয় — পল কাপুর কতটা দক্ষতার সঙ্গে এই জটিল অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও সহযোগিতার ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন।

📍সূত্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা, bdnews TRACKER