প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে (যেমন SCO বা G20) এবং বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে একাধিকবার মিলিত হয়েছেন। তবে এবারের মোদি পুতিন বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ংকর শুল্কনীতির হাত থেকে বাঁচতে ভারত ও রাশিয়াকে অর্থনৈতিক মুক্তির উপায় বের করতে হবে। চলুন দেখে নেই মোদি পুতিন বৈঠকের সারাংশ –
পুতিনের ভারত সফর
আপনার অনুরোধের ভিত্তিতে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক ভারত সফর-এর একটি সারাংশ নিচে দেওয়া হলো:
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে ৪ ও ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ভারতে আসেন। ইউক্রেন যুদ্ধের পর এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর ছিল। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করা এবং পশ্চিমাদের চাপের মুখেও দুই দেশের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখা।
🇷🇺🤝🇮🇳 মূল আলোচনার বিষয় ও সিদ্ধান্ত
এই সফরে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট পুতিন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন।
১. প্রতিরক্ষা সহযোগিতা (Defence Cooperation)
• সামরিক হার্ডওয়্যার সরবরাহ: ভারত রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে ঝুলে থাকা S-400 আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-র বাকি স্কোয়াড্রনগুলো দ্রুত সরবরাহের উপর জোর দেয়।
• নতুন চুক্তি: ভারতের সু-৫৭ (Su-57) পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক হার্ডওয়্যার নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা আলাদা বৈঠকও করেন।
• লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট চুক্তি: দুই দেশের সামরিক বাহিনী একে অপরের সামরিক পরিকাঠামো ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট চুক্তি অনুমোদন করে।
২. অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক (Economy & Energy)
• তেল আমদানি: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখেও ভারত-রাশিয়ার তেল আমদানির সম্পর্ক আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ভারতের রুশ তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায়, পুতিন তা অব্যাহত রাখার উপর জোর দেন।
• বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষা করতে ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়াতে রাশিয়া আগ্রহ দেখায়।
• গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি: অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, জাহাজ নির্মাণ, রাসায়নিক এবং সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
৩. ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (Geopolitical Context)
• শান্তির বার্তা: প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈঠকে পুতিনকে স্পষ্ট করে জানান যে ইউক্রেন যুদ্ধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে শেষ করা উচিত এবং ভারত শান্তির পক্ষে।
• পশ্চিমাদের চাপ: পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলেও, ভারতে এসে মোদির সঙ্গে বৈঠক করে পুতিন বিশ্বকে একটি বার্তা দেন যে রাশিয়ার সঙ্গে এশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক শক্তিশালী আছে।
• অন্যান্য সুবিধা: রাশিয়াতে শ্রম সংকট মেটাতে ভারতের দক্ষ কর্মীদের কাজে লাগানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
৪. জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (People-to-People Contact)
• ই-ভিসা: ভারতে রাশিয়ান পর্যটকদের জন্য ৩০ দিনের বিনামূল্যে ই-ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
• দূতাবাস: ভারতে রাশিয়ান জনগণের জন্য রাশিয়ার কাজান এবং ইয়েকাতেরিনবুর্গে দুটি নতুন ভারতীয় দূতাবাস খোলার কথাও ঘোষণা করা হয়।
সব মিলিয়ে, এই সফরটি দুই দেশের বিশেষ এবং বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Special and Privileged Strategic Partnership)-কে বর্তমান বৈশ্বিক চাপের মুখেও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।