মাগুরা ২ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন এনসিপির প্রার্থী খাজা তারিক

মাগুরা ২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এবি বাকেরকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এনসিপি মনোনীত প্রার্থী খাজা তারিক।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাগুরা-২ (মহম্মদপুর-শালিখা) আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এবি বাকেরকে (এমবি বাকের) সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) মনোনীত প্রার্থী খাজা তারিক।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। এর ফলে এই আসনে জামায়াত প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

সমর্থনের কারণ

সংবাদ সম্মেলনে খাজা তারিক জানান, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন:

“নির্বাচনী ঐক্য এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আমি জামায়াত প্রার্থী এবি বাকেরকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। এখন থেকে আমার নেতা-কর্মীরা তাঁর জয়ের লক্ষ্যে মাঠে কাজ করবে।”

মাগুরা-২ আসনের বর্তমান পরিস্থিতি

মাগুরা-২ আসনে নির্বাচনী লড়াই এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগের আধিপত্য মোকাবিলায় জামায়াত ও এনসিপি’র এই ঐক্য, অন্যদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আসনটিকে টক-অব-দ্য-টাউনে পরিণত করেছে।

• জামায়াত: জেলা জামায়াতের নেতা এমবি বাকের দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। এনসিপি’র সমর্থনে তাঁর ভোটের পাল্লা ভারি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সমর্থকরা।

• বিএনপি: এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরীকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এই আসনে যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের জনপ্রিয়তা থাকলেও মনোনয়ন না পাওয়াটা চিন্তার কারণ হতে পারে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে মাগুরা-২ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জামায়াত ও এনসিপি’র এই নতুন জোট বিএনপির ভোট ব্যাংকে কতটা হানা দিতে পারে এবং আওয়ামী লীগের ভোট কতটুকু টানতে পারে তার উপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে।