পরীমনি বাংলাদেশের মিডিয়া জগতের ঠিক কতোটা জায়গা জুড়ো রয়েছে তা নিয়ে ঠিক করে বলা না গেলেও পরীমনির বিস্তৃতি নেই কোথায় সেটাই প্রশ্ন। দেড় দশকের ক্যারিয়ারে ২ টা হিট ছবি উপহার দিতে না পারলেও মাসের পর মাস নেতিবাচক খবর আলোচনাতেই ছিলেন নায়িকা পরীমনি। চলুন জেনে নেই পরীমনির জীবন কথা।
🎬 পরীমনি: আলো-ছায়ার এক নায়িকার জীবনকথা
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নাম— পরীমনি। তার আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। জন্ম ২৪ অক্টোবর ১৯৯২ সালে, পিরোজপুর জেলায়। খুব অল্প বয়সেই মা-বাবাকে হারিয়ে খালার কাছে বড় হয়েছেন। শৈশবের কষ্ট ও অভাবের মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল তার জীবনের সংগ্রাম।
🎭 শুরুটা মঞ্চে, স্বপ্ন ছিল বড় পর্দায়
পরীমনি প্রথমে মঞ্চনাটকে অভিনয় শুরু করেন। সেখান থেকেই তৈরি হয় অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা। ২০১৩ সালে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি মিডিয়ায় প্রবেশ করেন। অল্প সময়েই তার সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস ও প্রাণবন্ত অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে নেয়।
🎥 চলচ্চিত্রে অভিষেক
২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর একে একে **‘রানা প্লাজা’, ‘পোড়ামন ২’, ‘রক্ত’, ‘স্বপ্নজাল’, ‘বিশ্বসুন্দরী’**সহ বহু আলোচিত ছবিতে অভিনয় করেন।
বিশেষ করে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ এবং চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিশ্বসুন্দরী’ তার ক্যারিয়ারে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
💔 সংগ্রাম ও বিতর্ক
অভিনয়ের পাশাপাশি পরীমনি বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন— কখনও সামাজিক মাধ্যমে সরব অবস্থান, কখনও ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাকে ঘিরে।
২০২১ সালে এক মামলার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়। তবে তিনি কখনও নিজেকে হারিয়ে ফেলেননি; সাহসী কণ্ঠে সবসময় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
❤️ ব্যক্তিগত জীবন
পরীমনি ২০২১ সালে অভিনেতা শরিফুল রাজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে— নাম রাজ্য। যদিও পরবর্তীতে সম্পর্কের জটিলতা ও বিচ্ছেদের খবরও আলোচনায় আসে, কিন্তু মা হিসেবে তিনি রাজ্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে জীবনের মানে খুঁজে পেয়েছেন।
🌟 নায়িকা থেকে প্রেরণা
পরীমনির জীবন শুধুই সিনেমার গল্প নয়— এটি এক নারীর সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং বেঁচে থাকার উদাহরণ। শৈশবের দুঃখ থেকে উঠে এসে তিনি আজ দেশের অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি প্রমাণ করেছেন— স্বপ্ন যদি সত্যি করার সাহস থাকে, তবে যেকোনো অন্ধকার পেরিয়ে আলোয় ফেরা সম্ভব।