এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে খাজা তারিকের শুভেচ্ছা ও সতর্কবার্তা

এনসিপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভেচ্ছার পাশাপাশি সতর্কবার্তা জানিয়ে লিখেছেন সংগঠনটির মাগুরা জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাজা তারিক। লেখাটি পাঠদের জন্য হুবুহু প্রকাশ করা হলো-

গত এক বছরে বাংলাদেশের রাজনীতি ছিল চরমভাবে সংকটমুখী ও রূপান্তরকালীন।
√ গণতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ
√নির্বাচন ব্যবস্থা বিশ্বাস হারিয়েছে
√ বিরোধী রাজনীতি দমন-পীড়নের মধ্যে কোণঠাসা
√ সাধারণ মানুষের মাঝে রাজনৈতিক বিতৃষ্ণা গভীর
এই শূন্যতা থেকেই নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন দেখা দেয়। ঠিক এই জায়গাতেই জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি সম্ভাবনার নাম হয়ে ওঠে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু প্রস্তুতি ছিল না
এই এক বছরে দলটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক দেখিয়েছে—তারা পুরোনো ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে কথা বলেছে, নাগরিক অধিকার, নৈতিকতা, সংস্কারের ভাষা এনেছে, তরুণদের একাংশের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

কিন্তু বন্ধুরা, সত্যটা এখানেই কঠিন—
১. রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা—সবচেয়ে বড় দুর্বলতা:
রাজনীতি কেবল আদর্শ দিয়ে চলে না, চলে কৌশল, ধৈর্য আর সময়জ্ঞানে। জাতীয় নাগরিক পার্টির অনেক সিদ্ধান্ত ছিল— আবেগপ্রবণ, সময়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, মাঠের বাস্তবতার চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক। এর ফলে তারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেরাই নিজের ক্ষতি করেছে।

২. সংগঠন দুর্বল, নেতৃত্বে সমন্বয়হীন: এক বছরে তারা শক্তিশালী তৃণমূল গড়তে পারেনি। জেলা–উপজেলায় কার্যকর কমিটি নেই, নেতৃত্বে অভিজ্ঞ ও নবীনদের মধ্যে ভারসাম্য নেই, সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক কেন্দ্রীয় দিকনির্দেশনা দুর্বল। রাজনীতিতে সংগঠন ছাড়া দল নামমাত্র একটি ব্যানার হয়ে থাকে—এটাই বাস্তবতা।

৩. বিরোধী দলগুলোর ফাঁদ ও ক্ষতিকর ভূমিকা: পুরোনো বিরোধী দলগুলো এই নতুন দলকে কখনোই স্বাগত জানায়নি। বরং তারা—কখনো ব্যবহার করতে চেয়েছে, কখনো বিভ্রান্ত করেছে, কখনো উসকে দিয়ে ভুল পথে ঠেলেছে। নতুন ও অনভিজ্ঞ দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি অনেক সময় এই ফাঁদ বুঝতে পারেনি। ফলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

ভবিষ্যৎ কি?
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— এই অনভিজ্ঞতাই কি তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে দেবে? উত্তর দুটো রাস্তায় দাঁড়িয়ে— অন্ধকার হবে যদি—তারা আত্মসমালোচনা না করে। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও চিন্তকদের পরামর্শ না নেয়। সংগঠন গড়ার চেয়ে বক্তব্যকেই রাজনীতি মনে করে। বিরোধী দলগুলোর কৌশল বুঝতে ব্যর্থ হয়। আলো আসবে যদি—তারা ধৈর্য ধরে শেখে, তৃণমূলকে শক্ত করে, আদর্শের সঙ্গে বাস্তব রাজনীতির সমন্বয় করে আর নাগরিকদের আস্থাকে স্লোগানে নয়, কর্মে রূপ দেয়।

শেষ কথা
বন্ধুরা, জাতীয় নাগরিক পার্টির এক বছর ব্যর্থতা নয়, বরং একটি শিক্ষা-বর্ষ। এই শিক্ষা তারা যদি গ্রহণ করে—তাহলে তারা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে বিকল্প শক্তি হতে পারে। আর যদি না করে—তাহলে ইতিহাসে তারা আরেকটি সম্ভাবনাময় কিন্তু হারিয়ে যাওয়া নাম হয়ে থাকবে। আজ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভেচ্ছার পাশাপাশি সতর্কবার্তাও জরুরি—
কারণ রাজনীতিতে ভুল শুধরানোর সুযোগ সীমিত,
কিন্তু সময় একবার চলে গেলে আর ফেরে না।