ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-প্রশাসন শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু গতবছর বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামি যে এই হলের নামফলকে ‘ওসমান হাদি হল’ লিখে রেখেছিল, বিএনপি প্রশাসন তা মুছে ফেললেও সেখানে এখনও ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখেনি। বলা ভালো— লেখার সাহস পায়নি, বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামির তাণ্ডবের ভয়ে। দল হিশেবে বিএনপি দুর্বলচিত্তের ইমানদার, সরকার হিশেবে আরও দুর্বল— প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হিশেবে রওশন এরশাদ যতটা দুর্বল ছিলেন, সরকার হিশেবে বিএনপি এর চেয়েও বেশি দুর্বল। বিএনপি এখন চুপিসারে পরিস্থিতি দেখবে, পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখলে নামফলক এভাবে খালিই পড়ে থাকবে; পরিস্থিতি অনুকূলে দেখলে নামফলকে অক্টোবর মাসে লিখবে ‘শেখ’, ডিসেম্বর মাসে ‘মুজিবুর’, ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রহমান’, জানুয়ারি মাসে ‘হল’।
নতুন করে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম লেখার আগ পর্যন্ত নামফলক যেহেতু খালিই থাকবে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের আমলে দেশজুড়ে যেহেতু ‘স্বাধীনতা ৩.০’ চলছে; সেহেতু ওখানে এখন যে-কেউ চাইলে যেকোনো নাম লিখে দিয়ে আসতে পারে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পরাধীন ছিল। ৫ আগস্ট থেকে দেশ স্বাধীন। এত স্বাধীন একটা দেশে একটা হলের নামফলকে যেকোনো কিছু লিখে দিয়ে আসার স্বাধীনতা নিশ্চয়ই আছে। খালি নামফলকে একেক গোষ্ঠী একেকদিন একেকটা নাম লিখবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-প্রশাসন তা নীরবে মুছে দিয়ে আসবে। তেমন কোনো অসুবিধা হবে না।
এমতাবস্থায় পিনাকী ভট্টাচার্য লোক পাঠিয়ে ঐ নামফলকে লিখিয়ে আসতে পারেন ‘বিজয় ৩” হল’, মামুনুল হক নিজে গিয়ে লিখে দিয়ে আসতে পারেন ‘বিজয় ৫০১ হল’, তারেক রহমানের নেতাকর্মীরা গিয়ে লিখে আসতে পারে ‘অমর একুশে হল ২.০’ (এই ‘একুশে’ মানে একুশে ফেব্রুয়ারি না, এই ‘একুশে’ মানে একুশে আগস্ট), জামায়াত লিখতে পারে ‘পূর্ব পাকিস্তান আল-বদর স্মৃতি হল’। দেয়াল খালি পেলে সেই দেয়ালে বাঙালি নানান ধরনের যোগ-বিয়োগও করে থাকে। সেই সূত্রে আলোচ্য খালি নামফলকে যার ইচ্ছে লিখে আসতে পারে— মামুন+ঝর্না, সাদিক+ফরহাদ, তুষার+নীলা, হাসনাত+সারজিস, গাজি নজরুল+মরিয়ম, ৩”+ইলিয়াস।