বাংলার বাণী ভবন দখলের অভিযোগ মহসিন রেজার বিরুদ্ধে

রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাংলার বাণী ভবন দখলের অভিযোগ উঠেছে গণঅধিকার পরিষদের নেতা মহসিন রেজার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মহসিন রেজা মতিঝিলের ৮১ নম্বর বাংলার বাণী ভবনের নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে নেন। ভবনের বিভিন্ন অংশ ব্যবহারের পাশাপাশি সেগুলো ভাড়া দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার উপর প্রতিবেদন করে বাংলাদেশ প্রতিদিন। এ বিষয়ে মোহসীন রেজার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।

বাংলার বাণী ভবন নিয়ে মহসিন রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগের ঘটনা এর আগেও সংবাদে এসেছে। ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মহসিন রেজাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাংলার বাণী ভবন দখলের চেষ্টার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

বর্তমানে সেখানে পানসী নামে একটি রেস্তোরাঁ দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় একটি বাণিজ্যিক ভবন দখলের চেষ্টা এবং পরে থানায় হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ ও ৩০ জুলাই—যেখানে সমন্বয়ক পরিচয়ে একদল ব্যক্তি ‘বাংলার বানী ভবন’ দখলে নিতে গেলে উত্তেজনা ছড়ায়।

ঘটনার সূত্রপাত ২৯ জুলাই, যখন মহসিন রেজা, রিমন খান ও রায়হান আহমেদের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল বাংলার বানী ভবনে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়। ভবনটিতে একাধিক ব্যাংক এবং একটি সংবাদপত্রের অফিস থাকায় ভবন কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ পুলিশের সহযোগিতা চায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরদিন ৩০ জুলাই বিকেলে ওই সমন্বয়কারীরা থানায় গিয়ে পুলিশ কেন ভবনে গিয়েছিল—তা জানতে চেয়ে পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তারা থানায় প্রবেশ করে ওসির কক্ষে ঢুকে টেবিল চাপড়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করে কৈফিয়ত দাবি করেন। এ সময় তারা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং হট্টগোল সৃষ্টি করেন। সাধারণ সেবাপ্রার্থী নাগরিকরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে মহসিন রেজা, রিমন খান ও রায়হান আহমেদকে আটক করে। বাকিরা পালিয়ে যান। এরপর পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আদালতে হাজিরের পর তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা আগেও গুলশানে বাড়ি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তে ধরা পড়ার শঙ্কায় গ্রেপ্তাররা তাদের সহযোগীদের নাম-পরিচয় গোপন করছেন। মামলায় আরও ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।