২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ৩০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ২৯১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯২ জন। এ হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৪৫ দশমিক ২৩ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় সারা দেশে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে জাতীয় গড় পাসের হারের তুলনায় দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসার পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
দারুননাজাতের এবারের ফলাফলের বিশেষত্ব শুধু জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় নয়, বরং বিভিন্ন শাখার শিক্ষার্থীদের সাফল্যেও। প্রতিষ্ঠানটির চারটি শাখার মধ্যে দারুননাজাত তাখসিসি শাখা এবং দারুননাজাত মাদরাসা কিতাব বিভাগ—এ দুটি শাখায় শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
দারুননাজাত তাখসিসি শাখায় ১০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ শাখায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার প্রায় ৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে, দারুননাজাত মাদরাসা কিতাব বিভাগে ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। অর্থাৎ বিভাগটিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার প্রায় ৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া দারুননাজাত মাদরাসার মহিলা শাখায় ১১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে ২১৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৪ জন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৭ জন। অন্যদিকে, সাধারণ বিভাগে ১ হাজার ৭৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ১৪ জন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৫০৫ জন শিক্ষার্থী।
আলিম পরীক্ষার ফলাফলে দেশের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মাদরাসার সঙ্গে তুলনা করলেও দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসার শির্ষ সাফল্যের চিত্র উঠে আসে।
তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার যাত্রাবাড়ী, টঙ্গী ও মহিলা শাখার সম্মিলিত ফলে পাসের হার ৯৭ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ২৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার পাসের হার ৯৭ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসার পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও আলোচিত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় বেশি।
ফেলের হার বিবেচনায়ও দারুননাজাতের ফলাফল তুলনামূলকভাবে ভালো। প্রতিষ্ঠানটির ফেলের হার ১ দশমিক ১৫ শতাংশ। বিপরীতে তামিরুল মিল্লাতের তিনটি শাখার সম্মিলিত ফেলের হার ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার ফেলের হার ২ দশমিক ৬০ শতাংশ।
দারুননাজাত মাদরাসার প্রিন্সিপাল আলহাজ মাওলানা আ. খ. ম. আবু বকর সিদ্দীক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দলীয় রাজনীতিমুক্ত পরিবেশে সুন্নতে নববীর পূর্ণ অনুসরণ এবং আউলিয়ায়ে কেরামের অনুসৃত আদর্শে পরিচালিত এ মাদরাসায় বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, দ্বীনি পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়, গভর্নিং বডির দক্ষ পরিচালনা, এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা, শিক্ষকদের কর্তব্যনিষ্ঠা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত এ সাফল্যের মূল ভিত্তি। মাদরাসার উত্তরোত্তর সাফল্য ও শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
সামগ্রিকভাবে আলিম পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার, জিপিএ-৫ অর্জন এবং বিভিন্ন শাখার শিক্ষার্থীদের সাফল্যে দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।
