বড়দিনের শুভেচ্ছা জানালেন এনসিপি নেতা খাজা তারিক

বড়দিনের শুভেচ্ছা জানালেন এনসিপি নেতা খাজা তারিক

খ্রিস্টান ধর্মের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উৎসব বড়দিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাগুরা জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ তারিকুল ইসলাম (খাজা তারিক)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা ২ আসন থেকে এনসিপির মনোনয়ন পাওয়া খাজা তারিক এক শুভেচ্ছা বার্তায় জানান-

শুরু করছি, পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

গতকাল ছিল বড়দিন—শান্তি, করুণা ও মানবমুক্তির এক গভীর স্মৃতির দিন। এই দিনটি শুধু খ্রিস্টানদের ধর্মীয় আবেগের বিষয় নয়; এটি মানবজাতির নৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের প্রতীক।

আল্লাহ এক। তাঁর পথও এক। কিন্তু মানুষের সামনে সেই পথ প্রকাশ পেয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ভিন্ন রূপে, ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বের মাধ্যমে। হযরত ঈসা (আঃ) ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)—দু’জনই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্যের বাহক। তাঁদের উদ্দেশ্য এক:
মানুষকে জুলুম থেকে মুক্ত করা, মিথ্যার শৃঙ্খল ভাঙা, আর আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা। তবে তাঁদের কর্মপদ্ধতি ছিল সময় ও বাস্তবতার আলোকে ভিন্ন।

ঈসা (আঃ) এসেছিলেন এমন এক সমাজে, যেখানে মানুষ কেবল বাইরের শাসনের নয়—ভেতরের ধর্মীয় কর্তৃত্ব, সামাজিক ভণ্ডামি ও নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার। রোমান সাম্রাজ্যের শক্তি ছিল দৃশ্যমান, কিন্তু আরও ভয়ংকর ছিল ক্ষমতালোভী ধর্মীয় অভিজাতদের অদৃশ্য শাসন। আইন ছিল, কিন্তু ন্যায় ছিল না। উপাসনা ছিল, কিন্তু করুণা ছিল না। ঈসা (আঃ) এই দ্বৈত নিপীড়নের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মানুষের সামনে এক বিপজ্জনক সত্য উচ্চারণ করলেন—ক্ষমতা পবিত্র নয়, যদি তা মানবতার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।

তিনি তরবারি তুললেন না, কিন্তু সত্য উচ্চারণ করলেন—যা অনেক সময় তরবারির চেয়েও বেশি ভয়ংকর। তিনি ক্ষমতা দখলের ডাক দেননি, বরং বিবেক জাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বললেন—যা মানুষের অধিকার, তা মানুষের; আর যা আল্লাহর, তা আল্লাহর। এই কথার মধ্যেই ছিল সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব—উভয়ের বৈধতার ওপর প্রশ্নচিহ্ন।

ঈসা (আঃ) কারও গোষ্ঠীগত রাজনীতির সঙ্গে পুরোপুরি মেলেননি। তিনি বিদ্রোহীদের মতো রক্তক্ষয়ী নন, আবার ক্ষমতাসীনদের মতো আপসকামীও নন। তিনি আইনের কথা বলেছেন, কিন্তু মানুষের কষ্ট উপেক্ষা করে নয়। তাই তিনি হয়ে উঠলেন সকল ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর জন্য অস্বস্তির নাম।

ইতিহাস বলে—যখন কেউ গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে সত্যের কথা বলে, তখন সব গোষ্ঠীই তাকে একসময় শত্রু মনে করে।
সবচেয়ে করুণ সত্য হলো—মানুষ প্রায়ই মুক্তিদাতাকে চিনতে পারে না, কারণ মুক্তি এলে তাদের পুরনো সুবিধা, কর্তৃত্ব ও ভণ্ডামি ভেঙে পড়ে। তখন “জাতির স্বার্থ”, “স্থিতিশীলতা”, “বাস্তবতা”—এই শব্দগুলো ব্যবহার করে সত্যকে বলি দেওয়া হয়।

একজন নিরপরাধ মানুষকে উৎসর্গ করে নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাকে তারা ‘রাজনৈতিক প্রজ্ঞা’ বলে চালিয়ে দেয়।
কিন্তু আল্লাহর দৃষ্টিতে নৈতিকতা ছাড়া কোনো রাজনীতি বৈধ নয়।

ঈসা (আঃ)-এর জীবন আমাদের শেখায়—প্রকৃত মুক্তি শুরু হয় অন্তর থেকে। সাম্রাজ্য ভাঙার আগেই অহংকার ভাঙতে হয়। আইন পালনের আগেই ন্যায় ভালোবাসতে হয়। ধর্মের আগেই মানুষ হতে হয়।

এই বড়দিনে, আমরা যদি ঈসা (আঃ)-এর জন্মকে স্মরণ করি, তবে সেটি যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা না হয়। বরং আমরা নিজেদের জিজ্ঞেস করি—আজ যদি সত্য আবার আমাদের দরজায় কড়া নাড়ে, আমরা কি তাকে গ্রহণ করব? নাকি ক্ষমতা, গোষ্ঠী আর সুবিধার ভয়ে আবারও তাকে একা করে দেব?
ঈসা (আঃ)-এর উপর শান্তি ছিল যেদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, শান্তি আছে তাঁর উপর আজও, আর শান্তিই থাকবে—যেদিন সত্য আবার সম্পূর্ণভাবে বিজয়ী হবে।

আমিন।