চাটুকারদের বাংলাদেশ

যোগ্যতার অবমূল্যায়ন, তোষামোদির সংস্কৃতি ও আমাদের নৈতিক সংকট

মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমরা এমন এক অদ্ভুত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সত্য বলা বোকামি, সৎ থাকা দুর্বলতা, যোগ্যতা প্রকাশ করা অপরাধ আর তোষামোদ করাই যেন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা!

এ কেমন সমাজ গড়ছি আমরা? কেমন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলাম, আর আজ কোন বাস্তবতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছি?

মুখে আদর্শের ফুলঝুরি, অন্তরে ব্যক্তিস্বার্থের হিসাব। মুখে ধর্মের বাণী, অথচ কর্মে নৈতিকতার ঘাটতি। প্রকাশ্যে সততার বক্তৃতা, আড়ালে সুযোগ-সুবিধার সন্ধান। জনসমক্ষে নীতির পাহারাদার, ব্যক্তিগত জীবনে সেই নীতিরই সুবিধাজনক ব্যাখ্যা!

অবশ্য সবাই এমন নন। এখনো এই মাটিতে অসংখ্য সৎ, নিষ্ঠাবান ও নীতিবান মানুষ আছেন। তাঁদের নীরব অবদানেই সমাজ পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সৎ মানুষের সততা যদি বারবার তাঁর পথের বাধা হয়ে দাঁড়ায়, আর অসততার কৌশল যদি সাফল্যের সিঁড়ি হয়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা কোন মূল্যবোধের উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছি?

১. যোগ্যতাই যখন অযোগ্যতা

একজন মানুষ শিক্ষিত, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সৎ। তাঁর কাজের যোগ্যতা আছে, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা আছে, মানুষের জন্য কিছু করার আন্তরিকতাও আছে। অথচ তিনি বারবার উপেক্ষিত হন।

অন্যদিকে, আরেকজনের প্রধান দক্ষতা ক্ষমতাবানের মন জুগিয়ে চলা, প্রয়োজনমতো প্রশংসা করা, অন্যায় দেখেও নীরব থাকা এবং নিজের সুবিধার জন্য অবস্থান বদলে ফেলা।

এমন পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে যোগ্যতার মূল্যায়ন হয় না; মূল্যায়ন হয় আনুগত্যের। মেধা নয়, সম্পর্ক দরজা খোলে; দক্ষতা নয়, তোষামোদ সুযোগ তৈরি করে।

ফলে একসময় যোগ্য মানুষ নিজেকেই প্রশ্ন করেন—আমার সততাই কি আমার ব্যর্থতা? আমার শিক্ষা, শ্রম ও অভিজ্ঞতার কি কোনো মূল্য নেই?

না, যোগ্যতা ব্যর্থতা নয়। ব্যর্থতা সেই ব্যবস্থার, যে ব্যবস্থা যোগ্যতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও কাজে লাগাতে পারে না।

যোগ্য মানুষকে অবমূল্যায়ন করা মানে শুধু একজন মানুষকে বঞ্চিত করা নয়; তাঁর কাছ থেকে সমাজের সম্ভাব্য অবদানটুকুও কেড়ে নেওয়া।

২. চাকরি নেই, ন্যায্য পারিশ্রমিক নেই—স্বপ্নের দাম কত?

একজন তরুণ বছরের পর বছর পড়াশোনা করেন। পরিবার তাঁর পেছনে সঞ্চয় ব্যয় করে। মা-বাবা স্বপ্ন দেখেন, সন্তান একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবে, পরিবারকে সহযোগিতা করবে, দেশ ও মানুষের কাজে লাগবে।

তারপর শুরু হয় বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই।

যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ নেই। কাজ পেলেও অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক নেই। আর ন্যায্য পারিশ্রমিক দাবি করলে কখনো কখনো শুনতে হয়—কাজ করতে চাইলে করো, নইলে অন্য কেউ আছে!

কিন্তু একজন মানুষের শ্রম কি এতই সস্তা? তাঁর সময়, মেধা, দক্ষতা ও জীবনের মূল্য কি নিয়োগদাতার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল?

অর্থনৈতিক সংকট মানুষকে শুধু অভাবী করে না; কখনো কখনো নিজের আত্মমর্যাদার সঙ্গেও আপস করতে বাধ্য করে।

যোগ্য মানুষ যখন ন্যায্য জীবিকার জন্য সংগ্রাম করেন, তখন তাঁর ব্যর্থতা নিয়ে উপহাস করার আগে আমাদের কর্মসংস্থানের কাঠামো, নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার প্রশ্ন তুলতে হবে।

আমরা তরুণদের বলি, স্বপ্ন দেখো। পরিশ্রম করো। যোগ্য হয়ে ওঠো।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—যোগ্য হয়ে ওঠার পর তাদের জন্য ন্যায্য সুযোগ তৈরি করার দায়িত্ব কার?

শুধু তরুণের নয়; রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা এবং সামগ্রিক সমাজেরও।

৩. চাটুকারিতার বাজারে বিবেকের দেউলিয়াত্ব

চাটুকারিতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাসের বহু যুগে ক্ষমতার চারপাশে সুবিধাবাদীদের ভিড় দেখা গেছে। কিন্তু বিপদ তৈরি হয় তখনই, যখন কোনো প্রতিষ্ঠান বা সমাজে তোষামোদকে আনুগত্য, প্রশ্নহীনতাকে শৃঙ্খলা এবং সত্য গোপন করাকে কৌশল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তখন কেউ ভুল করলেও তাঁকে ভুল বলা যায় না। সিদ্ধান্ত ক্ষতিকর হলেও প্রশ্ন তোলা যায় না। নেতৃত্বের সমালোচনা করলেই সমালোচককে শত্রু ভাবা শুরু হয়।

অথচ যে নেতৃত্ব নিজের ভুল শুনতে পারে না, সে নেতৃত্ব নিজের ভুল সংশোধনের সুযোগও হারায়।

একজন সত্যিকারের সহকর্মী সব সময় প্রশংসা করবেন না। প্রয়োজনে তিনি আপত্তি জানাবেন, যুক্তি দেবেন, ভুল ধরিয়ে দেবেন। কারণ তাঁর আনুগত্য কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়; তাঁর আনুগত্য সত্য, নীতি, প্রতিষ্ঠান ও বৃহত্তর কল্যাণের প্রতি।

প্রশংসা শুনে আনন্দিত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশংসাকেই যোগ্যতার প্রমাণ মনে করা বিপজ্জনক।

যে পরিবেশে সত্য বলার মানুষ কমে যায়, সেখানে একসময় মিথ্যা বলার মানুষই নিজেদের সত্যের মালিক মনে করতে শুরু করে।

৪. ধর্মের বাণী, নৈতিকতার পরীক্ষা

ধর্ম মানুষের আত্মশুদ্ধি, ন্যায়বোধ, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দিতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় আর নৈতিক চরিত্র এক বিষয় নয়।

মুখে ধর্মের কথা বলা সহজ; নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো কঠিন। অন্যকে উপদেশ দেওয়া সহজ; নিজের ভুল স্বীকার করা কঠিন। মানুষের সামনে ধার্মিকতার পরিচয় দেওয়া সহজ; সুযোগ পেয়েও অন্যায় সুবিধা গ্রহণ না করা কঠিন।

কেউ ধর্মীয় পরিচয় ধারণ করেন বলেই তাঁকে অসৎ বলা যায় না। আবার ধর্মীয় পরিচয় থাকলেই তাঁর প্রতিটি কাজ প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠে যায় না।

মানুষের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর কাজ, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও আচরণের ভিত্তিতে।

ধর্মের মুখোশ পরে অন্যায় করার অভিযোগ যেখানে ওঠে, সেখানে ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে অপমান না করে নির্দিষ্ট কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা যদি মানুষের আচরণে ন্যায়, সংযম ও মানবিকতা সৃষ্টি না করে, তবে আমাদের নিজেদের কাছেই প্রশ্ন রাখতে হবে—আমরা ধর্মের শিক্ষা গ্রহণ করছি, নাকি ধর্মীয় পরিচয়কে আত্মস্বার্থের ঢাল বানাচ্ছি?

৫. রাজনীতি কি আদর্শের, নাকি সুযোগ-সুবিধার?

রাজনীতি মানুষের অধিকার রক্ষা, বৈষম্য কমানো, জনকল্যাণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রকে ন্যায়ভিত্তিক পথে পরিচালিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

কিন্তু রাজনীতিতে যখন আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত প্রাপ্তি বড় হয়ে ওঠে, তখন কর্মী হয়ে ওঠেন ব্যবহারযোগ্য সংখ্যা, ত্যাগ হয়ে ওঠে দর-কষাকষির উপাদান, আর আনুগত্যের মূল্য নির্ধারিত হয় কে কতটা সুবিধা দিতে পারেন তার ভিত্তিতে।

যাঁরা কঠিন সময়ে পাশে থাকেন, তাঁদের অবদান ভুলে যাওয়া হয়। যাঁরা নীতিগত প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের অস্বস্তিকর মানুষ হিসেবে দেখা হয়। আর যাঁরা পরিস্থিতি বুঝে প্রশংসার ভাষা বদলাতে পারেন, তাঁদের কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।

তবে এই সংকট কোনো একটি দল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক বৈশিষ্ট্য—এমন সিদ্ধান্ত প্রমাণ ছাড়া দেওয়া উচিত নয়। বরং যে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কাছে একই প্রশ্ন তোলা দরকার।

নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্যতার মূল্যায়ন কতটা হয়? সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা কতটা আছে? ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ কতটা? কর্মীর ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হয় কি? আর নেতৃত্বের ভুল হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা আছে কি?

রাজনীতি যদি কেবল পদ, প্রভাব ও প্রাপ্তির সিঁড়ি হয়ে যায়, তাহলে আদর্শের কথা বলার নৈতিক ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্যও সত্য গ্রহণ, ভুল স্বীকার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার মানসিকতা অপরিহার্য।

৬. সৎ ও সাহসী মানুষের স্বপ্নের মৃত্যু হতে দেওয়া যায় না

অভাবের যাঁতাকলে পিষ্ট মানুষকে শুধু সাহসের গল্প শোনানো যথেষ্ট নয়। তাঁর ন্যায্য কর্মসংস্থান দরকার, শ্রমের উপযুক্ত মূল্য দরকার, নিরাপদ জীবন দরকার, নিজের মেধা বিকাশের সুযোগ দরকার।

একজন সৎ মানুষকে বারবার যদি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতে হয়, একজন যোগ্য তরুণকে যদি বারবার পরিচয় ও প্রভাবের কাছে অসহায় হতে হয়, তাহলে শুধু ব্যক্তিকে উপদেশ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।

প্রয়োজন ন্যায্য নিয়োগব্যবস্থা, দক্ষতাভিত্তিক পদায়ন, শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিক, দুর্নীতির কার্যকর প্রতিরোধ, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান।

সততাকে টিকিয়ে রাখতে হলে সততার জন্য উপযোগী পরিবেশও তৈরি করতে হবে।

কারণ নৈতিকতা ব্যক্তির দায়িত্ব হলেও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্মিলিত দায়িত্ব।

৭. তাহলে কি সব শেষ?

না, সব শেষ হয়ে যায়নি।

যত দিন একজন মানুষ অন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেন, ‘এটা ঠিক নয়’; যত দিন একজন শিক্ষক নিজের দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করেন; যত দিন একজন কর্মকর্তা ঘুষের প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেন; যত দিন একজন সাংবাদিক প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য প্রকাশ করেন; যত দিন একজন রাজনৈতিক কর্মী নিজের দলের ভুলেরও সমালোচনা করতে পারেন—তত দিন পরিবর্তনের সম্ভাবনা বেঁচে থাকে।

তবে শুধু সৎ মানুষ থাকলেই হবে না। সততার পক্ষে কার্যকর প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছ নিয়ম এবং ন্যায্য মূল্যায়নও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

যোগ্যতার মূল্যায়ন হতে হবে প্রমাণযোগ্য দক্ষতা ও কাজের ভিত্তিতে। নিয়োগ হতে হবে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতায়। পারিশ্রমিক নির্ধারিত হতে হবে কাজ, দায়িত্ব ও ন্যায্যতার বিবেচনায়। নেতৃত্বের মূল্যায়ন হতে হবে তার সিদ্ধান্ত, আচরণ, জনসেবা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে।

আর আমাদের প্রত্যেককে নিজের দিকে তাকাতে হবে।

আমি কি সত্যিই সেই আদর্শে বিশ্বাস করি, যার কথা অন্যকে বলি? সুযোগ পেলে আমিও কি অন্যায় সুবিধা গ্রহণ করব? নিজের লোক অন্যায় করলে কি প্রতিবাদ করব? আমার সঙ্গে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে কি তাঁর যুক্তি শুনব?

সমাজ বদলের দাবি তখনই বিশ্বাসযোগ্য হয়, যখন আত্মসমালোচনার সাহসও তার সঙ্গে থাকে।

শেষ কথা: মুখোশ নয়, মানুষ চাই

আমি এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে যোগ্যতা কাউকে ভীত করবে না; সততা কাউকে নিঃসঙ্গ করে তুলবে না; ধর্মীয় পরিচয় কারও অন্যায়ের ঢাল হবে না; রাজনৈতিক আনুগত্য কারও জবাবদিহি থেকে মুক্তির সনদ হবে না।

আমি এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন তরুণ তাঁর যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাবেন, একজন শ্রমজীবী মানুষ তাঁর শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাবেন, একজন সৎ কর্মকর্তা তাঁর সততার জন্য অপমানিত হবেন না এবং একজন সত্যভাষী মানুষকে শুধু সত্য বলার কারণে শত্রু বলে চিহ্নিত করা হবে না।

আমি জানি, শুধু চাওয়ায় বাংলাদেশ বদলাবে না। বদল আনতে হবে নীতি, প্রতিষ্ঠান, আচরণ ও সিদ্ধান্তে।

তাই আমার প্রশ্ন কোনো একজন মানুষকে নিয়ে নয়; প্রশ্ন আমাদের সামগ্রিক বিবেককে নিয়ে।

আমরা কি সত্যিই আদর্শ চাই, নাকি আদর্শের পরিচয়টুকু ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ পূরণ করতে চাই?

আমরা কি যোগ্য মানুষ চাই, নাকি শুধু আমাদের প্রশংসা করবে এমন মানুষ চাই?

আমরা কি ন্যায়বিচার চাই, নাকি নিজের পক্ষে গেলে অন্যায়কেও ন্যায় বলে মেনে নিতে প্রস্তুত?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের প্রত্যেককে নিজের ভেতরে খুঁজতে হবে।

কারণ একটি দেশের পতাকা উঁচুতে উড়লেই তার নৈতিকতা উঁচুতে ওঠে না। উন্নয়নের পরিসংখ্যান বাড়লেই মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত হয় না। আর মুখে আদর্শের কথা বললেই কেউ আদর্শবান হয়ে ওঠেন না।

বাংলাদেশের সংকট শুধু সম্পদের অভাব নয়; সম্পদ, ক্ষমতা ও সুযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ন্যায়বোধের অভাবও একটি বড় প্রশ্ন।

দেশের মানুষকে নতুন স্বপ্ন দেখানোর আগে আমাদের নিজেদের আচরণে সেই স্বপ্নের প্রমাণ রাখতে হবে।

মনে রাখতে হবে—পদ সাময়িক, প্রভাব সাময়িক, সম্পদ সাময়িক; কিন্তু মানুষের প্রতি অন্যায়ের দায় এবং নিজের বিবেকের কাছে জবাবদিহির প্রশ্ন সহজে মুছে যায় না।

আমি হতাশ হতে পারি, কষ্ট পেতে পারি, কাছের মানুষের আদর্শচ্যুতিতে ব্যথিত হতে পারি। কিন্তু তাই বলে সত্যের প্রতি আমার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।

আমার কলম চলবে—কাউকে অন্ধভাবে মহিমান্বিত করার জন্য নয়, কাউকে প্রমাণ ছাড়া অপরাধী বানানোর জন্যও নয়; বরং ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সামনে অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলো তুলে ধরার জন্য।

কারণ আমি বিশ্বাস করি, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার মুখের বাণীতে নয়, তার কাজের সততায়। আর একটি দেশের প্রকৃত শক্তি চাটুকারদের ভিড়ে নয়, সত্য বলার সাহসী মানুষের মর্যাদায়।

চাটুকারিতার বাংলাদেশ নয়—আমি চাই যোগ্যতা, সততা, ন্যায় ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ।

সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

কলম চলুক। বিবেক জাগুক। মানুষ জিতুক।